একটি স্কুটি তিনটি মানুষের বেঁচে থাকার গল্প

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

একটি স্কুটি তিনটি মানুষের বেঁচে থাকার গল্প
ছবি: যুগান্তর

ভাড়ায় বাইক চালনো সংগ্রামী নারী শাহনাজের ছিনতাই যাওয়া স্কুটি ও উদ্ধার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বেশ সরব। এ নিয়ে গণমাধ্যম ও পুলিশকে বাহবা জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পেজেও পোস্ট দেওয়া হয়।

বুধবার বাংলাদেশ পুলিশ পেজে হাফিজুর রহমান নামে একজনের স্ট্যাটাস হুবহু দেয়া হলো।

ছেলেটির সঙ্গে অল্প দিনের পরিচয়। মেয়েটি নিজের ভাগ্য নিজেই গড়তে পরিশ্রম করেন সারা দিন। তার দুই মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে একমাত্র অবলম্বন একটি স্কুটি।

নিয়মিত একটি রাইডের খোঁজ আছে সেই ছেলেটির কাছে। স্বামী পরিত্যক্ত মহিলার আয়ের একমাত্র উৎস ওই স্কুটি, চালাতেন উবারে। স্কুটিটি নিয়মিত ভাড়া হলে সংসারের অভাব থাকবে না।

বাবার আদর থেকে বঞ্চিত মেয়ে দুটি পাবে তিনবেলা তিন মুঠো খাবারের সংস্থান। এমন ভাবনা থেকেই ছেলেটিকে দিয়েছিল মোবাইল নম্বর। এরপর কথা হয়েছে বেশ কয়েকবার। উবারের স্কুটি ভাড়া নেয়া মহিলার সংখ্যা এখনও ঢাকা শহরে হাতেগোনা, তাইতো ছেলেটির দেয়া আশ্বাসে স্বপ্নের জাল বুনেছিলেন শাহানাজ।

এবার ছেলেটি শাহনাজকে জানায় কথা বলতে হবে মূল ভাড়া নেয়া নারীর সঙ্গে। যেতে হবে তার অফিসে। ফার্মগেট এলাকার খামারবাড়ি থেকে ছেলেটি ওঠে শাহনাজের স্কুটিতে। চলে যায় এয়ারপোর্টে, সেখান থেকে মিরপুর, তালতলা ঘুরে আবার আসে মানিক মিয়া এভিনিউতে।

এর মধ্যে অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছে শাহনাজকে। জানিয়েছে তার নাম জনি। প্রতিদিন যে বিশাল আয় হবে তারও একটা হিসাব দিয়েছে শাহনাজকে। কিন্তু এই মিষ্টি কথার ছলে যে কঠিন প্রতারণা অপেক্ষা করছে, তা জানা ছিল না শাহানাজের।

ঘটনা ১৫ জানুয়ারির। দুপুরের দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এসে জনি স্কুটির ইঞ্জিন এবং গতি পরীক্ষা করতে অনুমতি চায় শাহনাজের কাছে। সরল-সহজ শাহানাজ তার স্কুটিটি চালানোর জন্য দিয়ে দেয় তাকে। এর পরের গল্প অন্যরকম। জনি স্কুটিটি নিয়ে আর ফেরত আসেনি।

মুহূর্তেই ঘটনার খবর ছড়িয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমে। শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ও তেজগাঁও জোনের চৌকস পুলিশ অফিসাররা দ্রুত স্কুটিটি উদ্ধারে তৎপর হয়।

একমাত্র আয়ের অবলম্বন হারিয়ে অসহায় শাহানাজ সিদ্ধান্ত নেয় স্কুটিটি ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত তার হেলমেট মাথা থেকে খুলবেন না। কয়েকটি সংগঠনও এগিয়ে আসে শাহানাজের চোখের জল থামাতে। কেউ নতুন স্কুটি কিনে দিতেও হাত বাড়ায় তার দিকে।

তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পুলিশ নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার রঘুনাথপুর এলাকা থেকে প্রতারক জুবাইদুল ইসলামকে আটকসহ উদ্ধার করেন স্কুটিটি।

তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিল্পব সরকার স্কুটিটি শাহানাজকে ফেরত দিয়েছেন এবং সঙ্গে তার সন্তানদের জন্য উপহার হিসেবে দিয়েছেন নগদ ১০ হাজার টাকা। স্বল্প সময়ে এমন অকল্পনীয় সাফল্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সংবাদমাধ্যমে পুলিশকে বাহবা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমন সব অসহায় শাহনাজদের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের এ অনন্য সেবা আগেও ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

ঘটনাপ্রবাহ : শাহনাজের স্কুটি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×