শাহবাগ মোড় অবরোধ, ৭ দাবি
jugantor
শাহবাগ মোড় অবরোধ, ৭ দাবি

  ঢাবি প্রতিনিধি  

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:০৫:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

সাত দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ সাত দফা দাবি আদায়ে এই অবরোধ করে। এ সময় তারা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ’র ব্যানারে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেওয়া হয়। এ সময় বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংদের নেতাকর্মীরা এসে জড়ো হতে থাকেন। পরবর্তীতে কর্মসূচিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, চাঁদপুর, রাজশাহী, শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটের সংগঠনটির প্রায় কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী যোগ দিলে তারা দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে অবরোধের কর্মসূচি শুরু করেন। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

যানজট এড়াতে কেউ বাইক নিয়ে রাস্তা পার হতে চাইলে তাদের মারধর করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। আর অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘কোটা কোটা কোটা চাই, ৩০ শতাংশ কোটা চাই’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, রাজাকারের ঠাঁই নাই’, ‘জেগেছে রে জেগেছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা জেগেছে’- এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এ সময় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সোলেমান মিয়া, প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব শফিকুল ইসলাম বাবু, ভাইস চেয়ারম্যান সজীব সরকার, মিজানুর রহমান, ইয়াসিন আকন্দ, তসলিমা রেজা, যুগ্ম মহাসচিব ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হুদা, তিতুমীরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তাদের ৭ দাবিগুলো হলো- চাকরি ক্ষেত্রে সব পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল; সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সুরক্ষা আইন পাস; মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের একজন প্রতিনিধিকে ভোটার এবং ১৯৭২ এর সংজ্ঞা অনুযায়ী ভুয়া মুক্তযোদ্ধা তালিকা প্রণয়ন করতে হবে; মুজিব কোটের পবিত্রতা রক্ষা করতে সিনেমা, নাটকের মন্দ চরিত্রে মুজিব কোট নিষিদ্ধ করে আইন পাস করতে হবে; মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের পরিত্যক্ত সম্পত্তি দখলমুক্ত করে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা; মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলা নির্যাতন ও জমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং হাসপাতাল, সরকারি অফিস, বিমান বন্ধসহ সবক্ষেত্রে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভিআইপি মর্যাদা দিতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার সম্পাদক জামিল আহমেদ রাজু সাংবাদিকেদের বলেন, ৩০ শতাংশ কোটাসহ ৭ দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছি, আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত শাহবাগ ছেড়ে যাব না। এজন্য নেতাকর্মীদের অন্তত ৩ দিনের খাবার ব্যবস্থাসহ উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

ঢাকা বিভাগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিক ইবেন সায়মন বলেন, জীবনের মায়া ত্যাগ করে যারা বাংলাদেশকে অর্জন করেছে তাদের উত্তরসূরিরা আজ রোদে পুড়ছি। আমরা এখানে এসেছি আমাদের সম্মান পুনরুদ্ধারের জন্য। কারণ এই কোটা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সম্মাননা। সে সম্মাননা পুনরুদ্ধারের জন্য আজ আমরা মাঠে নেমেছি ।

তিনি বলেন, যে সব বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, সাংবাদিকরা কোটা আন্দোলন করেছিল এবং এ আন্দোলন করার জন্য ছাত্রদের উসকে দিয়েছে তারা বেজন্মা। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান করব, এসব বেজন্মাদের গোনায় না ধরে আমাদের সম্মান ফিরিয়ে দেন।

এ সময় সাদিক ইবেন সায়মন আরও বলেন, যারা কোটাবিরোধী আন্দোলন করেছে এবং বুকে 'আমি রাজাকার' শব্দ লিখেছে তাদের চিহ্নিত করুন। ওরা যেন ভোটাধিকার, সরকারি চাকরি, পাসপোর্ট না পায়। তাদের সব নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত করতে হবে। এটি করা না হলে জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শাহবাগ মোড় অবরোধ, ৭ দাবি

 ঢাবি প্রতিনিধি 
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৭:০৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সাত দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ সাত দফা দাবি আদায়ে এই অবরোধ করে। এ সময় তারা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন। 

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ’র ব্যানারে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেওয়া হয়। এ সময় বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংদের নেতাকর্মীরা এসে জড়ো হতে থাকেন।  পরবর্তীতে কর্মসূচিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, চাঁদপুর, রাজশাহী, শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটের সংগঠনটির প্রায় কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী যোগ দিলে তারা দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে অবরোধের কর্মসূচি শুরু করেন। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। 

যানজট এড়াতে কেউ বাইক নিয়ে রাস্তা পার হতে চাইলে তাদের মারধর করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। আর অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘কোটা কোটা কোটা চাই, ৩০ শতাংশ কোটা চাই’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, রাজাকারের ঠাঁই নাই’, ‘জেগেছে রে জেগেছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা জেগেছে’- এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন। 

এ সময় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সোলেমান মিয়া, প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব শফিকুল ইসলাম বাবু, ভাইস চেয়ারম্যান সজীব সরকার, মিজানুর রহমান, ইয়াসিন আকন্দ, তসলিমা রেজা, যুগ্ম মহাসচিব ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হুদা, তিতুমীরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
 
তাদের ৭ দাবিগুলো হলো- চাকরি ক্ষেত্রে সব পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল; সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সুরক্ষা আইন পাস; মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের একজন প্রতিনিধিকে ভোটার এবং ১৯৭২ এর সংজ্ঞা অনুযায়ী ভুয়া মুক্তযোদ্ধা তালিকা প্রণয়ন করতে হবে; মুজিব কোটের পবিত্রতা রক্ষা করতে সিনেমা, নাটকের মন্দ চরিত্রে মুজিব কোট নিষিদ্ধ করে আইন পাস করতে হবে; মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের পরিত্যক্ত সম্পত্তি দখলমুক্ত করে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা; মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলা নির্যাতন ও জমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং হাসপাতাল, সরকারি অফিস, বিমান বন্ধসহ সবক্ষেত্রে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভিআইপি মর্যাদা দিতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার সম্পাদক জামিল আহমেদ রাজু সাংবাদিকেদের বলেন, ৩০ শতাংশ কোটাসহ ৭ দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছি, আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত শাহবাগ ছেড়ে যাব না। এজন্য নেতাকর্মীদের অন্তত ৩ দিনের খাবার ব্যবস্থাসহ উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। 

ঢাকা বিভাগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিক ইবেন সায়মন বলেন, জীবনের মায়া ত্যাগ করে যারা বাংলাদেশকে অর্জন করেছে তাদের উত্তরসূরিরা আজ রোদে পুড়ছি। আমরা এখানে এসেছি আমাদের সম্মান পুনরুদ্ধারের জন্য। কারণ এই কোটা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সম্মাননা। সে সম্মাননা পুনরুদ্ধারের জন্য আজ আমরা মাঠে নেমেছি । 

তিনি বলেন, যে সব বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, সাংবাদিকরা কোটা আন্দোলন করেছিল এবং এ আন্দোলন করার জন্য ছাত্রদের উসকে দিয়েছে তারা বেজন্মা। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান করব, এসব বেজন্মাদের গোনায় না ধরে আমাদের সম্মান ফিরিয়ে দেন। 

এ সময় সাদিক ইবেন সায়মন আরও বলেন, যারা কোটাবিরোধী আন্দোলন করেছে এবং বুকে 'আমি রাজাকার' শব্দ লিখেছে তাদের চিহ্নিত করুন। ওরা যেন ভোটাধিকার, সরকারি চাকরি, পাসপোর্ট না পায়। তাদের সব নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত করতে হবে। এটি করা না হলে জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।