ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগকে ঘিরে সিলন টি’র বিশেষ আয়োজন
চট্টগ্রামের গল্প উদযাপনে ‘সিলন আমার শহর’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, খাবার, জীবনযাপন এবং শহরকে ঘিরে মানুষের আবেগ ও স্মৃতিকে উদযাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সিলন আমার শহর—চট্টগ্রাম’ ক্যাম্পেইনের মেগা ইভেন্ট।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের নেভি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ভিন্নধর্মী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বন্দরনগরীর চেনা-অচেনা গল্প তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের প্রতিটি শহরেরই রয়েছে নিজস্ব পরিচয়, ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি, খাবার এবং মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আবেগের সম্পর্ক। দেশের বিভিন্ন শহরের এসব স্বতন্ত্র গল্প নতুনভাবে আবিষ্কার করে সারা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরার ভাবনা থেকেই সিলন টি শুরু করেছে ‘সিলন আমার শহর’ ক্যাম্পেইন। এর প্রথম শহর হিসেবে বেছে নেওয়া হয় চট্টগ্রামকে।
ক্যাম্পেইনের শুরু থেকেই চট্টগ্রামের মানুষকে এর সক্রিয় অংশীদার করার উদ্যোগ নেয় সিলন টি। চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে বাজারে আনা হয় বিশেষ নকশার সিলন টি প্যাকেজিং। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও শহরকে ঘিরে নেওয়া হয় নানা উদ্যোগ।
‘আমার শহর’ ডিজিটাল কনটেস্টের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মানুষকে তাদের প্রিয় শহরকে ঘিরে ব্যক্তিগত স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও গল্প শেয়ার করার আহ্বান জানানো হয়। বিপুলসংখ্যক অংশগ্রহণকারীর মধ্য থেকে প্রতি সপ্তাহে নির্বাচিত করা হয় বিজয়ীদের। তাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিতদের মেগা ইভেন্টে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।
‘সিলন আমার শহর—চট্টগ্রাম’ মেগা ইভেন্টজুড়ে ছিল চট্টগ্রামকে নতুনভাবে আবিষ্কারের নানা সুযোগ। পুরোনো চট্টগ্রামের ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্য থেকে শুরু করে বন্দর ও রেলওয়ের গল্প, শহরের সংস্কৃতি, সংগীত, জীবনযাপন ও বৈচিত্র্যময় খাবার বিভিন্ন অভিজ্ঞতামূলক উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
বিশেষ গুরুত্ব পায় চট্টগ্রামের নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি। মেজবান থেকে বেলা বিস্কুট, চায়ের আড্ডা থেকে স্থানীয় স্বাদের নানা অনুষঙ্গ—সবকিছুর মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয় চট্টগ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও সংস্কৃতির পরিচিত রূপ। পাশাপাশি শহরের সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে ছিল বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
৫০টির বেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটরের অংশগ্রহণে জমজমাট হয়ে ওঠে ‘সিলন আমার শহর—চট্টগ্রাম’ মেগা ইভেন্ট। সাবিলা নূর, সামিরা মাহি, এসপি ক্রিয়েশন, রেজভি আহমেদ, বেংগলি বইন, সম্পদ, জিসানসহ আরও অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিজেদের কনটেন্ট ও উপস্থিতির মাধ্যমে তুলে ধরেন চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় গল্প।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘সিলন আমার শহর বিশেষ ব্যক্তিত্ব সম্মাননা’। নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পরিচয়, সংস্কৃতি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করার স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘সিলন আমার শহর বিশেষ ব্যক্তিত্ব সম্মাননা’। নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পরিচয়, সংস্কৃতি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করার স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্বরা হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আবুল মোমেন, স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসেন, নগর পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, লেখক ও গবেষক হারুন রশিদ এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার।
সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের হাতে ‘সিলন আমার শহর বিশেষ ব্যক্তিত্ব সম্মাননা’ তুলে দেন আবুল খায়ের গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল্লাহ চৌধুরী।
এ ছাড়া সাপ্তাহিক বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন আবুল খায়ের কনজুমার গুডস ডিভিশনের জিএম ও হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং মোহাম্মদ ইউসুফ এবং জিএম ও হেড অব সাপ্লাই চেইন মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ আহমেদ।
চট্টগ্রাম ছিল ‘সিলন আমার শহর’ ক্যাম্পেইনের প্রথম গন্তব্য। মেগা ইভেন্টের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম অধ্যায়ের উদযাপন শেষ হলেও ‘আমার শহর’-এর যাত্রা এখানেই শেষ হচ্ছে না। বাংলাদেশের প্রতিটি শহরেরই রয়েছে নিজস্ব গল্প ও স্বতন্ত্র পরিচয়। চট্টগ্রাম তার গল্প বলেছে। এখন অপেক্ষা—‘সিলন আমার শহর’-এর পরবর্তী গন্তব্য কোন শহর।
