‘ক্রিয়েটিভপুল অ্যাওয়ার্ডে’ বড় অর্জন স্টারকম বাংলাদেশের
Advertisement
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরও একটি পালক। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘ক্রিয়েটিভপুল অ্যানুয়াল অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ দুটি সিলভার অ্যাওয়ার্ড জিতেছে স্টারকম বাংলাদেশ। স্যামসাং এর জন্য তৈরি ‘অ্যান অ্যাড দ্যাট ইরেজেস অ্যাডস’ ক্যাম্পেইনের জন্য এই স্বীকৃতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ক্যাম্পেইনটি যে দুটি বিভাগে অংশ নিয়েছিল, দুটিতেই সিলভার জিতেছে স্টারকম বাংলাদেশ। এবারের আয়োজনে ওই দুই বিভাগে সিলভারই ছিল সর্বোচ্চ পুরস্কার।
স্যামসাং এর মিড-রেঞ্জ এ সিরিজ স্মার্টফোনে থাকা এআই ফিচার অবজেক্ট ইরেজার মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরাই ছিল এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য। তবে ফিচারটি বোঝাতে গতানুগতিক বিজ্ঞাপনের পথ নেয়নি স্টারকম বাংলাদেশ। বরং এমন একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়, যা নিজেই দেখিয়ে দেয় অবজেক্ট ইরেজার কীভাবে কাজ করে।
ক্যাম্পেইনের ওয়েবসাইটে থাকা বিজ্ঞাপনগুলো ব্যবহারকারীরা চাইলে চিহ্নিত করে মুছে ফেলতে পারতেন। স্যামসাং এর অবজেক্ট ইরেজার যেমন ছবির অপ্রয়োজনীয় কোনো বস্তু সরিয়ে দেয়, এই ক্যাম্পেইনেও একইভাবে বিজ্ঞাপন মুছে ফেলার সুযোগ রাখা হয়। ফলে ফিচারটি কীভাবে কাজ করে, তা আলাদা করে বোঝানোর বদলে ব্যবহারকারীরা নিজেরাই সেটি করে দেখতে পারতেন।
এই আইডিয়ার মাধ্যমে একটি জটিল এআই ফিচারকে সহজে বোঝানোর পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের বাড়তি ভিড়কেই ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে কাজে লাগানো হয়েছে। ওয়েবসাইট, সেখানে থাকা বিজ্ঞাপন এবং ব্যবহারকারীর অংশগ্রহণ, সবকিছু একসঙ্গে কাজ করেছে অবজেক্ট ইরেজারের কার্যকারিতা তুলে ধরতে।
ক্রিয়েটিভপুলের এই স্বীকৃতি ক্যাম্পেইনটির ধারাবাহিক সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর আগে কমওয়ার্ড ও ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এ একই ক্যাম্পেইনের জন্য মোট নয়টি পুরস্কার পেয়েছে স্টারকম বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সৃজনশীল প্রতিযোগিতায় এই অর্জন প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।
গ্লোবাল স্টারকম নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে পুবলিসিস মিডিয়া ও বিটোপি গ্রুপ-এর সঙ্গে কাজ করছে স্টারকম বাংলাদেশ।
এই অর্জন নিয়ে স্টারকম বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারাহ আলী বলেন, মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ তৈরি করে এবং বিজ্ঞাপনের জগতে নতুন কিছু যোগ করে, এমন কাজ করাই আমাদের সবসময়কার লক্ষ্য। এই স্বীকৃতি আমাদের পুরো দলের জন্য সত্যিই গর্বের একটি মুহূর্ত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন অঙ্গনের জন্যও এটি আনন্দের খবর। কারণ, এই অর্জন প্রমান করে, দেশের মাটিতে তৈরি ভালো আইডিয়াও বিশ্বের সেরা কাজগুলোর সঙ্গে জায়গা করে নিতে পারে। আমরা আশা করি, এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রতিভাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করবে এবং দেশের বিজ্ঞাপন অঙ্গনে আরও সাহসী ও নতুন ধরনের কাজ করতে উৎসাহ দেবে।
স্টারকম বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আহমেদুন ফায়েজ বলেন, স্টারকম বাংলাদেশ এর আগেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই ধারাবাহিক সাফল্য এটাই প্রমাণ করে, ভালো মানের কাজ করার প্রতি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি ও চেষ্টা, সেটি আমরা ধরে রাখতে পেরেছি। আমাদের ক্লায়েন্ট ও পার্টনারদের আন্তরিক ধন্যবাদ, তাদের নিয়মিত সহযোগিতা ও আস্থাই আমাদের আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।
ক্যাম্পেইনটি নিয়ে স্টারকম বাংলাদেশের ডিরেক্টর আরএইচ সজীব বলেন, আমরা ভাবছিলাম, এআইয়ের কোনো একটি ফিচারকে কীভাবে এমনভাবে তুলে ধরা যায়, যাতে সেটি মানুষের কাছে ‘আরেকটা সাধারণ ফিচার’ মনে না হয়; বরং সত্যিকার অর্থেই কাজে লাগে এবং মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে ওঠে।
তিনি আরওবলেন, পুরো কাজটাই ছিল আমাদের টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। শুরুতে আইডিয়াটা তৈরি করা থেকে শুরু করে সেটি তুলে ধরার জন্য সঠিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম খুঁজে বের করা, প্রযুক্তি ও বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া, সবকিছুতেই আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। মানুষের খুব সাধারণ একটি অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া ভাবনাকে এমন কিছুতে পরিণত করতে চেয়েছি, যেটা মানুষ শুধু দেখবে না, নিজেরাও অনুভব করতে পারবে। এই স্বীকৃতি আসলে পুরো টিমের সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টারই স্বীকৃতি।
ক্রিয়েটিভপুলে স্টারকম বাংলাদেশের ২০২৫ সালে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৪ আল্ট্রার জন্য তৈরি ‘সামারিজ, জাস্ট লাইক দ্যাট!’ ক্যাম্পেইনের জন্যও ক্রিয়েটিভপুলে স্বীকৃতি পেয়েছিল।
দুটি ক্যাম্পেইনেই পণ্যের সুবিধাকে শুধু বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তুলে ধরার বদলে মানুষের সামনে সরাসরি অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। পণ্যের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে সহজ ও আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়ার এই ধারাবাহিকতাই স্টারকম বাংলাদেশের কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে।
