Logo
Logo
×

সারাদেশ

সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, সরকারি কার্যালয়ে তালা ঝোলানোর হুমকি

Icon

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:১২ পিএম

সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, সরকারি কার্যালয়ে তালা ঝোলানোর হুমকি

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে সমন্বয়ক পরিচয়ে ‘চাঁদার দাবি’কে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কয়েকজন যুবক নিজেদের ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দিয়ে কার্যালয়ে হাজির হয়ে কর্মকর্তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না পেলে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন তারা।

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে খাদ্যবান্ধব ডিলার ও সাধারণ মানুষ কার্যালয়ে জড়ো হন। এ সময় উত্তেজিত জনতা ধাওয়া দিলে সমন্বয়ক পরিচয়দানকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

অভিযুক্তরা হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাতক্ষীরার সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন রনি, সদস্য আরিফ, আবু হাসান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেবহাটার বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মীর আরিফ, ইমরান হোসেন ও নাহিদ ইসলাম।

খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অফিস সহকারী নুরুল ইসলাম বলেন, কয়েকজন যুবক এসে অফিসার কখন আসবেন জানতে চান। আমি বলি- তিনি আসতে দেরি করবেন। তখন তারা উত্তেজিত হয়ে অফিসার না এলে তালা ঝুলিয়ে দেবেন বলে হুমকি দেন। কিছুক্ষণ বসে থেকে হঠাৎ বের হয়ে যান।

স্থানীয় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির একাধিক ডিলার বলেন, আমরা শুনেছি কয়েক দিন ধরে কিছু যুবক সমন্বয়ক পরিচয়ে অফিসে এসে ঝামেলা করছে। আজ তারা তালা দিতে আসার খবর পেয়ে আমরা ছুটে যাই। তবে ততক্ষণে তারা পালিয়ে যায়।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাতক্ষীরার সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন রনি বলেন, আমার মামাতো ভাইয়ের দুঃসম্পর্কের এক ভাই ডিলারশিপ পেতে উপজেলা ফুড অফিসারকে ১৫ হাজার টাকা ঘুস দেন। এ সময় ঘুস দেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজও তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রনি আরও বলেন, বিষয়টি তিনি উচ্চমহলে অবগত করলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি ফুড অফিসার তাকে ঘুসের টাকা ফেরত নিতে অফিসে যেতে বলেন। বুধবার সকালে তিনি অফিসে গেলে ফুড অফিসার উপস্থিত ছিলেন না। ফিরে আসার সময় খবর পান, অফিসে গেলে তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে ঘুস গ্রহণের ভিডিও দাবি করা নাজমুল হোসেন রনির ওই ভিডিওতে দেখা গেছে- এক ব্যক্তি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং অন্য একজনকে দিতে বলেন।

দেবহাটা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শাহিনা খাতুন বলেন, কয়েকজন যুবক আমাকে ফাঁসিয়ে জরিমানার নামে ২০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। ঘটনার সময় আমি অফিসের কাজে বাইরে ছিলাম। পরে জানতে পারি তারা আমার অফিসে টাকা নিতে এসে হুমকি দিয়েছে। এরপর কী ঘটেছে তা আমি জানি না।

জুলাইয়ে আহত নাহিদ ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরা মেডিকেলের দুর্নীতিবাজ অফিসার মুরাদের অনৈতিক কাজের কিছু ফুটেজ সহযোদ্ধা রনি কিছুদিন আগে প্রকাশ করে। এই সূত্র ধরেই মুরাদের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী বাহিনী সাতক্ষীরা থেকে দেবহাটা যাওয়ার পথিমধ্যে সখিপুর মোড়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। তবে আজকের এ ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। আমি খোঁজখবর নেব।

সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে রনি এসে আমাকে বলেছিল, ডিলারশিপ নিয়োগে নাকি ঘুস নেওয়া হয়েছে। তখন আমরা বলেছিলাম, উপযুক্ত প্রমাণসহ অভিযোগ দিলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আজ তারা সরাসরি সেখানে গিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে; যা কাম্য নয়। আমরা তো তাদের আশ্বস্ত করেছিলাম যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাহলে তারা কেন সরাসরি সেখানে গেল?

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম