Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

রেস্টুরেন্টে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ

Icon

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৩৭ পিএম

রেস্টুরেন্টে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় একটি রেস্টুরেন্টে সাউন্ডবক্সে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে এক কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ভুক্তভোগী কিশোরী উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের বাসিন্দা এবং সে স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্রী।

গ্রেফতাররা হলেন- উপজেলার জামতৈল গ্রামের মো. আলমের ছেলে মো. আকাশ (২১), একই গ্রামের নান্নু সরকারের ছেলে মো. আতিক (২৩) ও কর্ণসূতি গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রামাণিকের ছেলে মো. নাজমুল হক নয়ন (২৩)।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় নির্যাতিত কিশোরীর মা বাদী হয়ে ধর্ষক নাইম হোসেনকে (২১) প্রধান আসামি করে আরও ছয়জনের নামে মামলা দায়ের করেন। নাইম চর কামারখন্দ গ্রামের রহমত আলীর ছেলে। গ্রেফতার তিনজন মামলার এজাহার নামীয় আসামি।

 

মঙ্গলবার বিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কামারখন্দ থানার এসআই রতন কুমার সাহা তিনজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

উল্লেখ্য, রোববার দুপুরে মাদ্রাসা থেকে কলম কেনার জন্য বাইরে বের হলে ওই কিশোরীকে ৬-৭ জন যুবক জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে নেয়। তাকে জামতৈল সেন্ট্রাল পার্কের পাশে ডেরা ফাস্টফুড অ্যান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নিয়ে ধর্ষণ করে নাইম হোসেন। কিশোরীর চিৎকার যেন বাইরে থেকে না শোনা যায় সেজন্য বাকি আসামিরা সাউন্ডবক্সে উচ্চস্বরে গান বাজায়। একপর্যায়ে কিশোরী অসুস্থ হলে ধর্ষক ও তার বন্ধুরা হাসপাতালে নিয়ে তাকে রেখে পালিয়ে যায়।

বর্তমানে ভিকটিম শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান।

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, সকালে মেয়ে মাদ্রাসায় যায়। ছুটি হলেও সে বাড়ি না ফেরায় আমরা খুঁজতে থাকি। হঠাৎ কেউ ফোনে জানায় আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে সিরাজগঞ্জের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি আছে। সেখানে গিয়ে মেয়ের অবস্থা খুব খারাপ দেখে শহীদ এম মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।

এদিকে সোমবার সকালে ঘটনাস্থল ডেরা ফাস্ট ফুড অ্যান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকরা গিয়ে কয়েকজন যুবককে আড্ডা দিতে দেখেন। এ সময় তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রেস্টুরেন্টটি সাময়িক বন্ধ করে দেয় এবং সেখান থেকে দুজনকে আটক করে।  

স্থানীয়দের অভিযোগ, কামারখন্দ সেন্ট্রাল পার্ক সংলগ্ন এলাকার ওই রেস্টুরেন্টে তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীরা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালায়। ওই এলাকায় মাঝে মধ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।  

কামারখন্দ থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন, আলোচিত এ ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .