Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

বিএনপির মনোনয়ন: প্রেস্টিজ ইস্যুতে জড়িয়েছেন গুরু-শিষ্য

Advertisement

Icon

আবেদ আমিরী, পটিয়া (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২৫ পিএম

বিএনপির মনোনয়ন: প্রেস্টিজ ইস্যুতে জড়িয়েছেন গুরু-শিষ্য

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া ও বিএনপির প্রাথমিক দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত এনামুল হক

Advertisement

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসন নিয়ে প্রেস্টিজ ইস্যুতে জড়িয়েছেন গুরু-শিষ্য। বিএনপির প্রাথমিক দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত ‘শিষ্য’ এনামুল হক এনামকে পেছন থেকে টেনে ধরতে মরিয়া ‘গুরু’ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া।

তিনিসহ অপর ৪ জন দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী এনামুল হক এনামের মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে।

তাদের দাবি, সাবেক এমপি গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেরা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম নেচার এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুদ্দিন সালাম মিঠুসহ এই চারজনের মধ্যে যেকোনো একজনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হোক।

 

জানা গেছে, ২০০৯ সালের পর পটিয়ায় বিএনপির রাজনীতি থমকে গেলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া এনামুল হক এনামকে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন এবং বিভিন্ন সমাবেশে পরিচয় করিয়ে দেন। ইদ্রিস মিয়ার হাত ধরে সক্রিয় হয়ে এনাম আওয়ামী সরকার আমলে পটিয়ায় রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেন। ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর হরতাল চলাকালে শান্তিরহাটে পুলিশের গুলিতে আহত হন। একাধিক মামলায় কারাবরণ করেন।

২০১৮ সালে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও আগের রাতে ভোট হওয়ায় নির্বাচনে হেরে যান। ওই নির্বাচনের দিন পটিয়া থানার সাবেক ওসি নেয়ামতের নির্দেশের ছোড়া গুলিতে এক যুবক ভোটার নিহত ও ভাটিখাইনে সেলিম নামের এক বিএনপি কর্মী গুলিতে গুরুতর আহত হন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতন হলে এস আলমের গাড়িকাণ্ডের ঘটনায় দল থেকে তিনি সাময়িক অব্যাহতি পান। পরে তার সেই আদেশ প্রত্যাহার এবং আসন্ন নির্বাচনে এনামকে দলের প্রাথমিক মনোনয়ন প্রদান করেন। ওই মনোনয়নের বিরুদ্ধে এনামের গুরু জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিসসহ মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্যরা এনামের মনোনয়ন পরিবর্তনের লিখিত আবেদন করেন।  

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, পটিয়াসহ অনেক স্থানে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন হবে। আনোয়ারা ও বাঁশখালীতেও হতে পারে পরিবর্তন।

তাদের মনোনয়ন দাবির আবেদনে দলীয় প্যাড ব্যবহার করা শৃঙ্খলাবিরোধী কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী নয়।

তিনি বলেন, এনামকে রাজনীতিতে এনে শক্তি বাড়িয়েছি। তাই বলে অপরাধ করিনি।

এনাম তার শিষ্য, তাই এনাম এমপি হলে গুরু হিসেবে তার খুশি হওয়ার কথা, কিন্তু তাকে টেনে ধরছেন কেন? জানতে চাইলে ইদ্রিস মিয়া বলেন, এনামের কারণে পটিয়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আমি জেলার আহ্বায়ক হওয়ার পর আমার বিরুদ্ধে বিদ্রূপ করেছেন। এনামের মনোনয়ন চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। তার মনোনয়ন শেষপর্যন্ত বহাল থাকলে দলের হয়ে কাজ করব।

এনামের বিরুদ্ধে এস আলম সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে, কিন্তু তার নিজের সঙ্গে এস আলমের ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে। এরপরও এনামের বিরুদ্ধে কেন? এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এস আলমের সঙ্গে আমার এখনো সম্পর্ক আছে। এস আলম আমার বাসায়ও গিয়েছেন। তাতে কোনো সমস্যা দেখছি না। অন্য উপজেলার মতোই পটিয়ায় দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য আন্দোলনের ডাক পড়তে পারেও বলেও জানান। 

 

এ বিষয়ে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম বলেন, যে কেউ দলের মনোনয়ন চাইতেই পারে। সেটা দোষের কিছু নয়। এটা যেহেতু স্কুল নয়, রাজনীতির মাঠ। সেহেতু গুরু শিষ্যের কিছু নাই। আমার মনোনয়নে সবাই খুশি হবে সেটা ভাবাও ঠিক নয়। তবে তারেক রহমানের নির্দেশ ও দলের স্বার্থে যিনি চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবেন তার পক্ষে কাজ করতেই হবে। আমার মনোনয়নে কে খুশি কে বেজার সেটা বড় কথা নয়। মান অভিমান থাকলেও দলের স্বার্থে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর জেলা বিএনপির আহবায়ক ইদ্রিস মিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। ইদ্রিস মিয়া সবার সঙ্গে কথা বলে একটি যৌথ মিটিং দেবেন বলেছিলেন। হয়ত সবার সঙ্গে এখনো কথা বলা শেষ হয়নি। কথা বলা শেষ হলে হয়ত শিগগিরই একটি যৌথ মিটিং দেবেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম