মৌলভীবাজার-৪ আসনে তিন প্রার্থী কোটিপতি, পিছিয়ে এনসিপি
আব্দুর রাজ্জাক রাজা, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
মৌলভীবাজার-৪ আসনের চার প্রার্থী
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ আসনে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ও দুইজনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান পাভেল।
বৈধ প্রার্থীরা হচ্ছেন- জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জেলা বিএনপি নেতা ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত শেখ নূরে আলম হামিদী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রীতম দাশ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত অ্যাডভোকেট আবুল হাসান ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জরিপ হোসেন।
বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতা জালাল উদ্দীন আহমেদ জিপু ও মূঈদ আশিক চিশতী।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনটিতে বিএনপি, বিদ্রোহী ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কোটিপতি। তাদের চেয়ে সম্পদে পিছিয়ে আছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রীতম দাশ।
হলফনামায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে হাজি মুজিব ব্যবসা ও কৃষি থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ২১ লাখ টাকা। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে– কমলগঞ্জ ও ঢাকায় দুই কোটি ২১ লাখ ২১ হাজার ২৮০ টাকা মূল্যের দুটি বাড়ি ও একটি ফ্ল্যাট। বিবি স্টেডিয়াম সুপার মার্কেটে ছয়টি দোকান, যেগুলোর দাম ৯০ লাখ দুই হাজার ২৮৭ টাকা। এক কোটি ৫১ লাখ ১৮ হাজার টাকা দামের দুই হাজার ১৫৫.৭৬ শতক কৃষিজমি। তার স্ত্রীর নামে এক কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ৪১৫ টাকা দামের উত্তরা, খিলক্ষেত ও চকবাজারে রয়েছে প্লট, জমি ও শপিংমলে চারটি দোকান রয়েছে।
এছাড়া স্ত্রী ও তার নামে ৫০ ভরি করে স্বর্ণালংকার রয়েছে। জেনারেল ভিডিও সেন্টারের নামে তার ছয় কোটি তিন লাখ ৯৮ হাজার টাকার ব্যাংকঋণ রয়েছে।
তথ্য অনুসারে, হাজি মুজিবের নামে চারটি মামলা বিচারাধীন। ইতোমধ্যে ১২টি থেকে খালাস ও তিনটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
অপরদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মহসিন মিয়ার পেশা ব্যবসা। তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন এক কোটি ৬৭ লাখ ১৯ হাজার ৭৯৪ টাকা। চার কোটি ১১ লাখ ২৪ হাজার ২৯১ টাকা দামের ৫১.৭২২৮ একর জমি আছে তার। রয়েছে ৯ কোটি ২৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৬ টাকা দামের বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট। কোম্পানির শেয়ার আছে ১২ কোটি ২৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকার। তার ব্যাংক ঋণ আছে দুই কোটি ৪৬ লাখ ৯২ হাজার ৮৯৯ টাকা। তিনি কোম্পানি থেকে বছরে সম্মানি পান ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯০০ টাকা। তার নগদ টাকার পরিমাণ ১০ লাখ ২৩ হাজার ৭৪০। ব্যাংকে জমা আছে ৬৮ লাখ ১১ হাজার ৫৯৫ টাকা। এক কোটি এক লাখ ২৩ হাজার টাকা দামের বিভিন্ন ব্রান্ডের গাড়ি রয়েছে। ২০ ভরি স্বর্ণের অধিগ্রহণ মূল্য ২০ হাজার টাকা। তার নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলা বিচারাধীন। এ ছাড়া ১৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, দুটি খারিজ হয়েছে। একটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন, ৯টি মামলা স্থগিত।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুর রব পেশায় শিক্ষক ও আইন পরামর্শদাতা। তার বার্ষিক আয় সাত লাখ টাকা। নগদ আছে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১১ লাখ ছয় হাজার ৩১৯ টাকা। অধিগ্রহণ মূল্যে দেড় লাখ টাকার সোনা রয়েছে। সিলেট ও কমলগঞ্জে এক কোটি ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ৩.৬৫ একর জমি আছে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কোটি টাকা মূল্যের ঘরসহ বাড়িও আছে তার।
এছাড়া এনসিপির প্রার্থী প্রীতম দাশের বার্ষিক আয় ৭২ হাজার টাকা। কৃষি তার আয়ের উৎস। তার বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলা একটি। ১১টি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। তার আছে নগদ তিন লাখ টাকা। নির্ভরশীলদের নামে আছে আট লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ১০ লাখ টাকা। এক লাখ আট হাজার টাকার শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও বন্ড রয়েছে তার। নিজ নামে তিন লাখ টাকা দামের ১৫ শতক জমি ও নির্ভরশীলদের নামে পাঁচ লাখ ৪০ হাজার টাকা দামের ১৮০ শতক জমি আছে। চার শতক ভূমির ওপর চার লাখ টাকা দামের একটি বাড়ি রয়েছে।
