মৌলভীবাজারে তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি, রোদ দেখায় স্বস্তি
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
মৌলভীবাজারে তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। বুধবারের চেয়ে বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেয়েছে। তবে দুপুর ১২টায় আকাশে সূর্য উঁকি দেওয়ার কারণে ঠান্ডা কম অনুভূত হচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া গত ১ জানুয়ারি সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ২ জানুয়ারি তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি, ৩ জানুয়ারি ১২.২ ডিগ্রি, ৪ জানুয়ারি ৯.৫ ডিগ্রি, ৫ জানুয়ারি ১২.৫ ডিগ্রি ও ৬ জানুয়ারি ১৪.৫ ডিজিটাল রেকর্ড করা হয়েছিল।
সবুজে ঘেরা ও চা বাগান অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখানে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। তীব্র ঠান্ডার কারণে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এসব এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।
গত কয়েক দিন ধরে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় প্রচণ্ড শীতে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। তীব্র শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে দরিদ্র মানুষের রাত কাটছে নির্ঘুম। শীতে কাবু হয়ে পড়েছে গৃহপালিত পশু-পাখিও। ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। শীত থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে রাস্তার পাশে বা খোলা স্থানে আগুন পোহাচ্ছেন। নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
রিকশাচালক রমিজ মিয়া বলেন, ঠান্ডার কারণে হাঁটাচলা করা যায় না। কাজ করব কিভাবে? তাই জড়সড়ো হয়ে এখানেই আগুন জ্বালিয়ে বসে আছি।
গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম বলেন, দিনের বেলা যেমন-তেমন রাতে বেশি কষ্ট করতে হয়। ঘরে কম্বল নেই, কাঁথাও ঠিকমতো গায়ে দেওয়া যায় না।
চা বাগানের বাসিন্দা রমেশ উর্মী বলেন, হাড়কাঁপুনি শীত। তাই কয়েকজনকে নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত তাড়ানোর চেষ্টা করছি।
তবে চা বাগানের নিম্নআয়ের অনেকেই জানিয়েছেন সরকারিভাবে এখনো শীতবস্ত্র (কম্বল) পাননি।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। রোগীর ভিড় থাকছে প্রতিদিন। এদের বেশিরভাগই শিশু ও বয়স্ক।
