প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহারকারী নারীর রিমান্ড
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
অভিযুক্ত পরীক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বরগুনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার হলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার অভিযোগে এক নারীকে শুক্রবার হল থেকে আটক করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পরে কেন্দ্রে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বাদী হয়ে বরগুনা থানায় মামলা করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বরগুনা শহরের পৃথক দুটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে দুজনকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন- বরগুনা সরকারি কলেজের ২ নাম্বার কেন্দ্রের ৩০২নং কক্ষের পরীক্ষার্থী অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন রাসেলের স্ত্রী ইয়ামনি এবং আইডিয়াল কলেজ কেন্দ্রের ১০৭নং কক্ষের পরীক্ষার্থী রাসেল মিয়া। ইয়ামনির শরীর থেকে কমিউনিকেটিভ ইলেকট্রনিক ডিভাইস (মাস্টার কার্ড) একটি পিন ও সিম উদ্ধার করা হয়।
ইয়ামনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম শুক্রবার ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বিচারক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে সোমবার আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানীর আদেশ দেন। পরীক্ষার হলে ইয়ামনি পরীক্ষা দেওয়ার সময় তার গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল। বারবার কানের ভেতরে হাত দেওয়া, ফিস ফিস করে কথা বলতে দেখে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সন্দেহ হয়। পরে তার কাছ থেকে একটি কমিউনিকেটিভ ইলেকট্রনিক ডিভাইস (মাস্টার কার্ড) ও কান থেকে একটি ডিভাইস ও রাসেল মিয়ার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর মো. নুরুল আমীন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরীক্ষায় এ ধরনের অপরাধ রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় এ অপরাধের সঙ্গে কারা জড়িত তা বের হয়ে আসবে।
বরগুনা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) থেকে প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই অংশ হিসেবে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ দুই পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও স্মার্টফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
