আদমজীতে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ, ১০ মাস পর শুটার সোহাগ গ্রেফতার
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেড এলাকায় ঝুট ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় আলোচিত সন্ত্রাসী সোহাগ ওরফে শুটার সোহাগকে (৩৪) গ্রেফতার করেছে যৌথ বাহিনী। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগরের ফুফাতো ভাই ও অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে তাকে দুই সহযোগী আব্দুল জলিল (৩২) ও মো. পারভেজসহ (২৫) আটক করা হয়। আটক তিনজনই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, সোহাগকে গত বছরের মার্চে আদমজী ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলিবর্ষণ করতে দেখা যায়। সেই সময় উভয়পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। সংঘর্ষে কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় ও আগুন দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কিছুদিন শুটার সোহাগ আত্মগোপনে ছিলেন। এর কিছুদনি পর সে এলাকায় ফিরে আসে বলে জানায় এলাকবাসী।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল বারিক বলেন, ভোরে কদমতলীর একটি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোহাগকে দুই সহযোগীসহ আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় তারা মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন। কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। তবে আটক তিনজনের দেহ তল্লাশি করে ১২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। ওজন প্রায় ১২ গ্রাম, আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৬ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, সোহাগের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মাদক ও ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী জলিল ও পারভেজের বিরুদ্ধেও মাদক ও অন্যান্য অপরাধে মামলা বিচারাধীন। অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়ে সোহাগ কিছুই স্বীকার করেননি। তবে আমরা ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালতে রিমান্ড চাইবো। পরে অস্ত্র উদ্ধার হলে তার নামে অস্ত্র আইনে মামলা হবে।
প্রসঙ্গত: ২০২৫ সালের ৬ মার্চ আদমজী ইপিজেডে ইউনিভার্সেল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয় এবং তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষের সময় সোহাগকে প্রকাশ্যে পিস্তল হাতে গুলিবর্ষণ করতে দেখা গেছে। ঘটনার পর তার ছবি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সে আত্মগোপনে চলে যায়।
