নওগাঁ-৪
আয়ে এগিয়ে কমিউনিস্ট প্রার্থী, ঋণে বিএনপি প্রার্থী
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে পাঁচ রাজনৈতিক দলের পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হচ্ছেন- বিএনপির প্রার্থী ইকরামুল বারী টিপু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল রাকিব, ইসলামী আন্দোলনে প্রার্থী সোহরাব হোসাইন ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলতাফ হোসেন।
প্রার্থীদের হলফনামা থেকে জানা গেছে, এই পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে আয় ও সম্পদ বেশি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী ডা. এসএম ফজলুর রহমান আর বার্ষিক ঋণ বেশি বিএনপির প্রার্থী ইকরামুল বারী টিপুর।
বিএনপির প্রার্থী ইকরামুল বারী টিপুর বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকা। কৃষি, চিকিৎসা ও ওষুধ কোম্পানির সম্মানী আয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছে তিনি। স্ত্রীর আয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তার নগদ আছে ২ লাখ টাকা। ১ লাখ ১৪ হাজার টাকার মোটরসাইকেল আছে। স্ত্রীর স্বর্ণ ১০ ভরি। মূল্য ২ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক পণ্য আছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার। আসবাবপত্র আছে ১ লাখ টাকার। অস্থাবর সম্পত্তির অর্জনকালীন মূল্য মোট মূল্য ৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। বর্তমানে মূল্য ২২ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পত্তি কৃষি ১৪১ শতক জমির মূল্য ১৮ লাখ টাকা। অকৃষি ১৭ শতক জমির মূল্য ২৪ লাখ টাকা। স্ত্রীর তিন শতক জমির মূল্য ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।নিজের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া একটি বাড়ির মূল্য ১০ লাখ টাকা।
স্ত্রীর আবাসিক ভবন রয়েছে; যার মূল্য ৬০ লাখ টাকা। নিজের স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৫২ লাখ টাকা। বর্তমানে নিজ সম্পত্তির মূল্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। তার ব্যাংক ঋণ আছে ৩৩ লাখ টাকা।
হলফনামায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল রাকিবের বার্ষিক আয় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। কৃষি ও ব্যবসা থেকে তিনি এ দেখিয়েছেন। তার নগদ আছে ১ লাখ টাকা ও স্ত্রীর আছে ১ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৫২ হাজার ৭৫৪ টাকা ও স্ত্রীর জমা আছে ৪ লাখ ২৬ হাজার ২২৬ টাকা। ইলেকট্রনিক পণ্য আছে ১ লাখ টাকা ও স্ত্রী ইলেকট্রনিক পণ্য আছে ৫০ হাজার টাকা। আসবাবপত্র আছে ২ লাখ টাকার।
স্থাবর সম্পত্তি কৃষি ও অকৃষি জমি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১০৪ শতকের মূল্য ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। ১৬৫০ স্কয়ার ফিটের নওগাঁ শহরে একটি আবাসিক বাড়ি রয়েছে। তার মূল্য ৩০ লাখ টাকা। নিজের স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। বর্তমানে নিজ সম্পত্তির মূল্য ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। জামায়াত প্রার্থী ব্যাংক ঋণ আছে ১ লাখ টাকা ও স্ত্রীর ঋণ আছে ৩ লাখ টাকা। তার কোনো টেলিফোন, বিদ্যুৎ ও পৌর কর নেই।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সোহরাব হোসাইনের বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৯০ হাজার ৯২০ টাকা। স্ত্রীর আয় ৫ লাখ টাকা। কৃষি ও ব্যবসা থেকে তিনি এ করেছেন। নিজের স্বর্ণ রয়েছে ২৫ তোলা, স্ত্রীর স্বর্ণ ২০ তোলা ও নির্ভরশীলদের স্বর্ণ ৪০ তোলা। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি ৪ একর, স্ত্রী ২ একর ও নির্ভরশীলদের জমি ১০ একর।
ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও আসবাবপত্রসহ অস্থায়ী সম্পদের পরিমাণ ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্জনকালীন মূল্য ৩৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বর্তমান মূল্য ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৭ হাজার ৪০৭ টাকা। কৃষি, অকৃষি, বাড়িসহ স্থাবর সম্পত্তি (কৃষি জমি ৪ একর, অকৃষি জমি ৮২ শতক, আবাসিক ভবন ৮২ শতক ও পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত একটি বাড়ি) অর্জনকালীন মূল্য ২৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। বর্তমান মূল্য ২ কোটি ২৪ লাখ ৬ হাজার ৯০০ টাকা।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী ডা. এসএম ফজলুর রহমানের বার্ষিক আয় ৩৮ লাখ ৬ হাজার ১২৩ টাকা। কৃষি, এফডিয়ার, সঞ্চয়পত্র, পেনশন ও চিকিৎসা থেকে তিনি এ আয় করেছেন। নগদ রয়েছে ১৫ হাজার টাকা। ব্যাংকে এফডিয়ার ৫০ লাখ ৭৪ হাজার ১৯০ টাকা। শেয়ার ৩০ হাজার ৬৩৬ টাকা। ১টি মোটরসাইকেল, ২টি মোবাইল ও আসবাবপত্রসহ অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫২ লাখ ৬৪ হাজার ৫২৬ টাকা। কৃষি, বাড়িসহ স্থাবর সম্পত্তি (কৃষিজমি ৩ বিঘা, পৈতৃক সূত্রে একটি বাড়ি, ঢাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট, প্রসাদপুর ১টি বাড়ি, অর্জনকালীন মূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বর্তমান মূল্য ৩ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আলতাফ হোসেনের বার্ষিক আয় ৫০ হাজার টাকা। কৃষি থেকে তিনি এ আয় করেছেন। নিজের মোটরসাইকেল একটি ৭০ হাজার টাকা। স্ত্রীর স্বর্ণ রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও আসবাবপত্রসহ অস্থায়ী সম্পদের পরিমাণ ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদ শুধুমাত্র ৩৩ শতক জমি রয়েছে। ঋণ রয়েছে ১ লাখ টাকা। আয় রিটার্নে প্রদর্শিত মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
