Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

বগুড়া-২ আসন

দুই হেভিওয়েটের সঙ্গে নাগরিক ঐক্যের মান্নার লড়াই

Icon

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম

দুই হেভিওয়েটের সঙ্গে নাগরিক ঐক্যের মান্নার লড়াই

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে শেষ মুহূর্তে সোমবার জমজমাট প্রচারণা চলছে। সর্বত্রই আলাপ চলছে প্রার্থীদের মধ্যে কে এগিয়ে আছেন। বিএনপি ও জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থীর ভিড়ে আলাদা করে চোখে পড়ছেন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি কেটলি মার্কার মাহমুদুর রহমান মান্না। নানামুখী চাপ, বাধা ও আর অভিযোগের মধ্যেও তিনি বলছেন, শেষপর্যন্ত মানুষের ভোটই কথা বলবে।

বগুড়া-২ ছাড়াও ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ঢাকা-১৮ থেকে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন।

পোস্টে মান্না লিখেন- এখন আমি বগুড়ায়। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঢাকা-১৮ একটি বিশাল নির্বাচনি এলাকা। এর অন্তর্গত সাতটি থানা এবং সাড়ে ছয় লাখের মতো ভোটার।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন এতই ব্যয়বহুল যে তা নির্বাহ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমি ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার এ সিদ্ধান্তে হয়তো অনেকে মনে কষ্ট পাবেন। তাদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

এদিকে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭১ হাজার ৪৯৭ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ৭০ হাজার ৬৫৩ জন। এর মধ্যে দুই হাজার ৮১৪ জন পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত। শিবগঞ্জের ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনটি বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

নির্বাচনি পথচলার শুরু থেকেই নানা বাধার মুখে পড়েছেন বলে দাবি মান্নার। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রচারণার মাঠ, প্রতিটি ধাপেই চাপ ছিল বলে তার অভিযোগ। তবুও সবকিছু পেরিয়ে তিনি এখন ভোটের লড়াইয়ে।

মান্নার ভাষায়, ক্ষমতার একটা ভার থাকে, সেই ভার অনেক জায়গায় প্রভাব ফেলছে। কোথাও কোথাও সেই প্রভাব ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হচ্ছে। তবে এ প্রভাব না থাকলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে এবং তখন তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হবেন।

হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রকৃত লড়াই হওয়া উচিত মানুষের সমর্থন নিয়ে। জোরজবরদস্তির প্রতিযোগিতায় তিনি নেই। তবে সমর্থনের লড়াইয়ে জয়ের আশা করছেন। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভোট নিয়ে যে অভিযোগ ও অনাস্থা তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে মানুষ এখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বড় কোনো শঙ্কা দেখছেন না। তবে কিছু এলাকায় নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর, নারী কর্মীদের হুমকি এবং বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন। সেগুলো বড় আকার নেয়নি বলেও দাবি তার।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মাহমুদুর রহমান মান্না ছাড়াও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন, বিএনপির মীর শাহে আলম ও জামায়াতে ইসলামীর আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান। মীর শাহে আলম বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। আর আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি।

এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার, ইসলামী আন্দোলনের জামাল উদ্দিন ও স্বতন্ত্র রেজাউল করিম তালু এ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকা ও নিরাপত্তার অভাবে গত ৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে হেভিওয়েটদের এই ত্রিমুখী লড়াই এখন শিবগঞ্জের ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

চাপ-অভিযোগ-প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই সমীকরণে শেষ হাসি কে হাসবেন তার উত্তর মিলবে ১২ ফেব্রুয়ারি। তবে অনেকের মতে মূল লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে।

ঘটনাপ্রবাহ: ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম