নাতির কাঁধে চড়ে ভোট দিলেন ৯২ বছরের তমিজ উদ্দিন
জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
৯২ বছর বয়সি তমিজ উদ্দিন নাতির কোলে ভর করে পৌঁছালেন ভোটকেন্দ্রে। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণের মধ্যেই ফুটে উঠেছে এক অনন্য মানবিক দৃশ্য। বয়সের ভারে ন্যুব্জ, চলাফেরায় অক্ষম ৯২ বছর বয়সি তমিজ উদ্দিন নাতির কোলে ভর করে পৌঁছালেন ভোটকেন্দ্রে, শুধু একটি ভোট দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে।
জলঢাকা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকেন উপস্থিত ভোটার, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা।
নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি না থাকলেও নাগরিক দায়িত্ব পালনে একটুও পিছপা হননি এই প্রবীণ ভোটার। নাতির সহায়তায় ধীরে ধীরে ভোটকক্ষে প্রবেশ করে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি।
ভোট দেওয়া শেষে তমিজ উদ্দিনের মুখে ছিল পরিতৃপ্তির হাসি। আবেগমিশ্রিত কণ্ঠে তিনি বলেন, শরীর আর সাড়া দেয় না, পায়ের শক্তি অনেক আগেই ফুরিয়েছে। তবু মনে হয়েছে, দায়িত্বটা পালন করা দরকার। তাই নাতিকে বলেছি আমাকে কেন্দ্রে নিয়ে যেতে। আজ শান্ত পরিবেশে ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে। কোনো ভয় বা অস্থিরতা নেই। এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ ভোট। পছন্দের মানুষকে ভোট দিতে পেরে এখন শান্তি লাগছে।
তার এই কথাগুলো মুহূর্তেই উপস্থিত সবার মনে দাগ কাটে। বয়সের সীমাবদ্ধতাকে হার মানিয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া তমিজ উদ্দিন যেন স্মরণ করিয়ে দিলেন—গণতন্ত্রের শক্তি আসলে সাধারণ মানুষের ইচ্ছা ও অংশগ্রহণেই।
এদিকে জলঢাকা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ৭৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৯৯ জন, পুরুষ ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৭৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন প্রার্থী।
বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক।
বিকাল পর্যন্ত গড়ে প্রায় অর্ধেক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির সৈয়দ আলী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি, জাতীয় পার্টির রোহান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের আমজাদ হোসেন সরকার।
সব মিলিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের এই দিনে তমিজ উদ্দিনের মতো প্রবীণ ভোটারের উপস্থিতি হয়ে উঠেছে গণতান্ত্রিক চর্চার এক অনুপ্রেরণাদায়ক প্রতীক।

