বয়সের ভারে ন্যুব্জ, শরীর ক্লান্ত, তবু দায়িত্বে অটল প্রবীণ ভোটাররা
যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ ও সাটুরিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানিকগঞ্জে এবারের নির্বাচনে একটি দৃশ্য বারবার চোখে পড়েছে—বয়সের ভারে ন্যুব্জ, শরীর ক্লান্ত, তবু দায়িত্বে অটল প্রবীণ ভোটাররা। তারা যেন প্রমাণ করে দিলেন- ভোটাধিকার কেবল সাংবিধানিক অধিকার নয়; এটি গভীর নাগরিক দায়বদ্ধতারও প্রতিফলন।
মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-শিবালয় ও দৌলতপুর) আসনের বানিয়াজুরী ইউনিয়ন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে দেখা মিলল ৯০ বছর বয়সি আছিয়া বেগম ও সমবয়সী জমিরন বেওয়ার। লাঠিতে ভর দিয়ে পাশে ছেলে ও পুত্রবধূ—ধীরে ধীরে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন তারা। বয়সের ভারে দৃষ্টি ঝাপসা, হাঁটতে কষ্ট, তবু ভোট না দিয়ে ফেরার প্রশ্নই ওঠেনি তাদের কাছে।
একই চিত্র মানিকগঞ্জ-৩ (সদর-সাটুরিয়া) আসনের পিটিআই কেন্দ্র ও নতুন বস্তি বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। কেউ ছেলের কাঁধে, কেউ নাতির সহায়তায় কেন্দ্রে পৌঁছেছেন। সকাল থেকেই প্রবীণদের এমন উপস্থিতি অন্য ভোটারদের মাঝেও এক ধরনের আবেগ ছড়িয়ে দেয়।
পিটিআই কেন্দ্রে শারীরিকভাবে অসুস্থ ৭২ বছরের আব্দুল মোতালেব কষ্ট করে ভোট দিতে আসেন। বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আসলাম হোসেনকে। ছেলের কাঁধে ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কেন্দ্রে ঢোকেন তিনি। দুর্বল শরীর, কাঁপা হাত—তবু চোখে মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। দীর্ঘদিন পর পছন্দের দল ও প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে তিনি যেন স্বস্তি খুঁজে পান।
একই কেন্দ্রে ভোট দেন আয়নাল উদ্দীন। নব্বইয়ের কোঠায় বয়স সাবেক সরকারি কর্মকর্তা জালাল আহমেদের। শারীরিক সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে তিনিও কেন্দ্রে এসে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা জানান, প্রবীণ ভোটারদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।
পিটিআই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের বলেন, শারীরিক অক্ষমতা ও বয়সজনিত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তারা ভোট দিতে এসেছেন। এটি গণতন্ত্রের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সচেতনতার পরিচয়। আমরা তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
সাটুরিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে কথা হয় আশি-ঊর্ধ্ব বাসন্তী রানী সরকারের সঙ্গে। তিনিও পুত্রবধূর হাত আর এক হাতে লাঠি ভর দিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসেন ভোট দিতে।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে তাই ছিল এক অন্যরকম আবহ। তরুণদের কোলাহলের ভেতরেও প্রবীণদের দৃঢ় পদচারণা যেন মনে করিয়ে দিয়েছে- গণতন্ত্র কেবল তরুণদের নয়, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান এক বিশ্বাসের নাম। আর সেই বিশ্বাসের দায় কাঁধে নিয়েই মানিকগঞ্জের প্রবীণরা হাজির হয়েছেন ভোটকেন্দ্রে।
এদিকে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের ১২টি ভোটকেন্দ্র সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে রেকর্ড সংখ্যক নারী ভোটারদের উপস্থিতি। বিশেষ করে সনাতনী হিন্দু ভোটাররা এবার ভোট কেন্দ্রে সরব।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মানিকগঞ্জ জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাসুদেব গোস্বামী জানান, তাদের সম্প্রদায়ের অধিকাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
