ভোটকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে দিনমজুর আহতের ঘটনায় কনস্টেবল প্রত্যাহার
Advertisement
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আবদুল মোতালেব। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সদর উপজেলার কাওয়াখোলা ইউনিয়নের মুজিবকেল্লা ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার কাওয়াখোলা ইউনিয়নের বড় কয়রা গ্রামের বাসিন্দা মোতালেবের দুই পা ব্যান্ডেজে মোড়ানো। ইতোমধ্যে দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। তবে স্বাভাবিকভাবে আবার হাঁটতে পারবেন কিনা তার অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
আহত মোতালেবের স্ত্রী হালিমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ভোট দিতে যান তিনি। কিন্তু ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মোতালেব।
তিনি আরও বলেন, ভোট দিতে গিয়ে এমন হবে, কখনো ভাবিনি। আমাদের সংসার চলবে কীভাবে, কী হবে এখন আমাদের।
জানা গেছে, কনস্টেবল ওহাব আলীর শটগান থেকে ছোঁড়া গুলিই মোতালেবের দুই পা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। ঘটনার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার তিনদিন পর জেলা প্রশাসক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর খোঁজখবর নিয়েছেন। চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক সহযোগিতা ও গৃহনির্মাণে মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত আছে।
সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ বলেন, গুলির ঘটনার পর ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কনস্টেবল ওহাব আলীকে পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও চলছে। তদন্তের পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে যে, গুলির ঘটনাটি ভুলবশত, নাকি ইচ্ছাকৃত।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে জেনেছি, ওই দিন সকাল ১১টার দিকে ভোট দিয়ে এসে মোতালেব কেন্দ্রের বাইরে পুলিশের পাশে বসেছিলেন। ওই সময় পুলিশ সদস্য তার বন্দুক পরিষ্কার করছিলেন। হঠাৎ একটি বুলেট মোতালেবের দুই পা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এটি দায়িত্বে অবহেলা নাকি অজ্ঞতা তা জানতে জেলা পুলিশ থেকে তদন্ত চলছে।
