ভোলার তজুমদ্দিনে অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারীর তিরোধান উৎসবে লাখ ভক্তের পাদচারণা
নীল রতন, তজুমদ্দিন থেকে ফিরে
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার আড়ালিয়া ও সম্ভুপুর দুই ইউনিয়নে শুরু হয়েছে প্রভুপাদ শ্রী শ্রী অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারীর (অনিল বাবাজি) ২৭তম তিরোধান উৎসব।
দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বৃহৎ এ উৎসবকে কেন্দ্র করে দুই মন্দির প্রাঙ্গণ এখন লাখো ভক্তের পদচারণায় মুখরিত। সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক মন্দিরে আগত ভক্তদের সেবায় দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করছেন। ৬টি বিশাল গেট নির্মাণের পাশাপাশি ব্যাপক আলোকসজ্জায় সাজানো হয় মন্দির দুটির প্রাঙ্গণসহ পুরো চত্বর।
বুধবার সন্ধ্যায় অধিবাসের মধ্যদিয়ে ৫ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয় বলে আয়োজক কমিটি জানিয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের আড়ালিয়া ‘সমাধি মন্দির ও সম্ভুপুর ইউনিয়নের নিজ জন্মস্থানে তিরোধান উৎসব উপলক্ষে ৪০ প্রহরব্যাপী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান হবে। বিভিন্ন জেলার দুই মন্দিরে ৬টি করে ১২টি কীর্তনীয়া দল এ যজ্ঞানুষ্ঠানে কীর্তন পরিবেশন করবেন।
বিগত বছরের ন্যায় এ বছরও ভক্তদের জন্য আড়ালিয়া মন্দিরে নান্দনিক দৃষ্টিনন্দন ‘বৃন্দাবন’ নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে সত্য, দাপর, কলি ও ত্রেতা’-এ চার যুগের নিদর্শনস্বরূপ শতাধিক বিগ্রহের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ভক্তরা প্রার্থনা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন।
এছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে মনোমুগ্ধকর কুণ্ডলী। বিগত বছরের মতো এ বছরও পুণ্যার্থীদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেছেন, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সংগঠন কুঞ্জের হাট হিন্দু যুবসংঘ। পাশাপাশি এ সংগঠনটি পুরো অনুষ্ঠানটি স্থানীয় ডিশ চ্যানেলে প্রচার করে যাচ্ছেন।
মন্দির দুটির চত্বরের চারপাশে প্রায় ১ কি.মি. স্থান জুড়ে তৈরি পোশাক, ফার্নিচার, কসমেটিকস, নিত্যপণ্য এবং কুটির শিল্প ছাড়াও অসংখ্য খাবার দোকানের স্টল বসছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বৃহৎ এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে পুণ্যার্থীদের ঢল নামতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকেও হাজার হাজার ভক্ত এসে ভিড় জমাচ্ছেন মন্দির প্রাঙ্গণে। এর মধ্যে সহস্রাধিক ভক্তের আবাসিক ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান, মন্দির কর্তৃপক্ষ।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অরবিন্দ দে (টিটু) জানান, অনিল বাবাজির মূল সমাধী মন্দিরে ২৭তম তিরোধান উৎসবে সারা দেশের মধ্যে অন্যতম একটি বৃহৎ উৎসব এখানে হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও দেশ ও দেশের বাইরের লাখো ভক্তের আগমন ঘটবে। ভক্তদের জন্য প্রতিদিন প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে নতুন করে আরও কিছু ভবন নির্মাণ ও প্রবেশ সড়কের রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। এ জন্য সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
একযোগে সম্ভপুর মন্দিরেও অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারীর ২১তম তিরোধান উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে নান্দনিক রূপে সাজানো হয়েছে মন্দির প্রঙ্গন।
