Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

মন্দিরের সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধনে হামলা, আহত ১০

Advertisement

Icon

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

মন্দিরের সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধনে হামলা, আহত ১০

Advertisement

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় মন্দিরের সম্পত্তি ও খাল উদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বুধবার দুপুরে উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের বাদে অরুয়াইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার মুখেও বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যান হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিরোধপূর্ণ একটি খালের দৃশ্যমান অংশ বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। এতে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে আশপাশের কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

দুপুর ২টার দিকে মোহনলাল জিউর মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শত শত নারী-পুরুষের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। তারা দখল হয়ে যাওয়া জায়গায় গিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সহিদ মিয়া ও তার লোকজন মিছিলে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

একপর্যায়ে রোকন উদ্দিন নামে এক যুবক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে ২০-২৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মন্দির কমিটির নেতারা দাবি করেন, মন্দিরের জায়গা নিয়ে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় প্রতিবেশী সহিদ মিয়া বালু ফেলে জমি দখলের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি খালের ওপরও মাটি ফেলা হয়েছে। জমি রক্ষার দাবিতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করতে গেলে হামলার শিকার হতে হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।

তবে অভিযুক্ত সহিদ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মন্দিরের জায়গায় তিনি কোনো মাটি ফেলেননি। যে অংশটি খাল হিসেবে দেখা যাচ্ছে, সেটি আসলে তার জমি। মানববন্ধনে হামলার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।

তার দাবি, একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে।

অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন বলেন, জমি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। উভয়পক্ষই জায়গাটি নিজেদের দাবি করছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় প্রশাসনিকভাবে মীমাংসা সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, খাল ভরাট না করতে সহিদ মিয়াকে নিষেধ করা হয়েছিল। দিনে কাজ না করলেও রাতে খাল ভরাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরাইল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখনো কোনো পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম