রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে এমপি মান্নানের কঠোর বার্তা
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দীর্ঘদিন ধরে চলা এলপিজি গ্যাসের অস্থিতিশীল বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং পবিত্র রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে আকস্মিক বাজার পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫) অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নবীনগর বাজারে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
এ সময় এমপির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নবীনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালিদ বিন মনসুর, পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গৃহস্থালির কাজে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা। অথচ গত দুই মাস ধরে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে নবীনগরে এই দাম মানা হচ্ছিল না।
অভিযোগ রয়েছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে প্রতি সিলিন্ডারে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করছিল।
জনভোগান্তি নিরসনে এমপি আব্দুল মান্নান আজ সরাসরি মাঠে নামেন। তিনি ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা ব্যবসায়ীদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, সরকার এলপিজি গ্যাসের খুচরা মূল্য সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে এবং এর চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়া যাবে না।
ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে এমপি বলেন, আজকের এ পরিদর্শন আপনাদের জন্য একটি প্রাথমিক সতর্কবার্তা। সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩৫০ টাকার বাইরে ভবিষ্যতে যেন আর দাম বাড়ানো না হয়। জনগণের পকেট কেটে অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
গ্যাসের পাশাপাশি এমপি বাজারের অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও যাচাই করেন। তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশ করে বলেন, এটা পবিত্র মাহে রমজান। রমজানের পবিত্রতা বজায় রেখে সব ধরনের পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। কোনোভাবেই যেন অযৌক্তিক দাম বাড়িয়ে মানুষকে কষ্ট দেওয়া না হয়।
অভিযানে উপস্থিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালিদ বিন মনসুর ব্যবসায়ীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি নিশ্চিত করেন যে, গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণ ও রমজানের বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।
অভিযান চলাকালে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এতে বাজারজুড়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে সতর্কতা সৃষ্টি হয়।
এমপির এমন সরাসরি পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক তৎপরতায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বাজারের সাধারণ ক্রেতারা। তারা আশা করছেন, এই তদারকির ফলে গ্যাস নিয়ে চলা অরাজকতা বন্ধ হবে এবং রমজানেও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।
