Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

পালিত মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

Icon

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

পালিত মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

রাজবাড়ীতে পালিত মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা করে প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন নিঃসন্তান বৃদ্ধ দম্পতি। এছাড়া তাদের ওপর মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন তারা। 

সোমবার বিকালে সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়ার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন।

তবে অভিযোগের সত্যতা নেই বলে অভিযুক্ত জামাই দাবি করেন।

জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়ার খোলাবাড়িয়া গ্রামের মোছাব্বর খাঁ ওরফে মোছা খাঁ দম্পতির ঘরে কোনো সন্তান নেই। চার মাস বয়সি হালিমা নামের এক কন্যাসন্তান লালনপালন করে বড় করেন। লেখাপড়া শিখিয়ে ১৯৯১ সালে বোনের ছেলে রমজান বেপারীর সঙ্গে হালিমাকে বিয়ে দেন। বাবার ১১ শতাংশ জমি বিক্রি করে ভাগ্নে রমজানকে সৌদি আরব পাঠান। ১৮ বছর সৌদি আরব থাকাকালে রমজানের স্ত্রী এবং সন্তানদের দেখাশোনা করা, সংসার চালানোর খরচ তিনিই সামাল দেন। এমনকি রমজানের দুই কন্যা সন্তানকে বিয়ে পর্যন্ত দেন। 

বৃদ্ধ মোছা খাঁ বলেন, সৌদি থেকে আসার পর ১৯৯৫ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজবাড়ী সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে কৌশলে ৯৬ শতাংশ জমি লিখে নেয়। পড়াশোনা জানি না বলে বুঝতে পারিনি। কয়েক বছর পর থেকে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে, খোঁজ নেওয়া বাদ দেয়। ২০২৪ সালের মার্চে বাড়ি ছাড়তে বলে। ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে নকল তুলে জানতে পারি বিএস ১৬৭ নম্বর দাগে নাল থেকে ৭৬ শতাংশ এবং বিএস ২৭৫ নম্বর দাগে বাড়িসহ ২০ শতাংশসহ ৯৬ শতাংশ জমি লিখে নিয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। জমি ফেরত চাওয়ায় ঘরের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দিয়েছে। কিছু বলতে গেলেই এলাকার চিহ্নিত খারাপ মানুষ দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। 

সোমবার (২ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে তার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে স্থানীয় কিছু অপরিচিত ব্যক্তি সেখানে হাজির হন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় কিছু উঠতি বয়সি তরুণরা ওই বৃদ্ধ দম্পতির দিকে তেড়ে আসে। পরে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের বাধায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

বৃদ্ধ দম্পতি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের দেখাশোনা তারা করবে বলে পালক কন্যাকে বিয়ে দিয়ে জমি বিক্রি করে ভাগ্নেকে বিদেশে পাঠাই। সৌদি থেকে দেশে ফিরে চক্রান্ত করে জমি লিখে নেওয়ার পর থেকে আর দেখাশোনা করে না। দুই বছর ধরে ঘরের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দিয়েছে। রোজার মাসে অন্ধকারে খেতে পারি না। কাটা বিঁধবে বলে মাছ খাই না। ওষুধ কেনার টাকা পর্যন্ত নাই। আমি এখন জমি ফিরে পেতে আদালতে মামলা করেছি। 

প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম বলেন, মোছা খাঁ নিজের ভাগ্নের সঙ্গে পালিত কন্যাকে বিয়ে দিয়েছেন। তাদের দেখাশোনা করার বিনিময়ে জামাইয়ের নামে জমি লিখে দিয়েছেন বলে জানি। জমির জন্য আদালতে মামলা করায় ঘরের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেয়। আমরা স্থানীয়ভাবে বসে সমাধানের চেষ্টা করেও পারিনি।

অভিযুক্ত রমজান বেপারী বলেন, জমিজমা লিখে দেওয়ার বিনিময়ে ১৯৯১ সালে মামার পালিত মেয়ে বিয়ে করি। ১৮-১৯ বছর সৌদি আরবের আমার উপার্জিত সমস্ত টাকা শ্বশুরের কাছে পাঠাই। আমার টাকা দিয়ে পরিবারের সবকিছু দেখাশোনা করে, বাড়িতে দুটি ঘর তোলেন। এতদিন পর জমি ফিরে পেতে উল্টো তিনি মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছেন। যদি তাই হয় তাহলে আমার উপার্জিত সমস্ত টাকা ফেরত দিক। তারপরও আমি তাদের বুঝিয়ে খাবার দাবার দিতাম, কিন্তু তারা থাকবে না।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .