সাগরে জেলেদের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, নিখোঁজ ২
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় জেলেদের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চার জেলে আহত এবং ২ জেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (৪ মার্চ) রাতে পাথরঘাটা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে এ ঘটনা ঘটে। জেলে ও ট্রলার মালিকের বাড়ি পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকায়।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন- চরদুয়ানী ইউনিয়নের আজিজ বয়াতির ছেলে মো. হিরু বয়াতি ও বেলায়েত গাজীর ছেলে জসিম গাজী। ঘটনার সময় প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ট্রলারের জেলেদের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের মনির আকনের মালিকানা এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলেরা বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করছিল। এমন সময় অপর একটি ট্রলিং ট্রলার জালের ওপর দিয়ে যেতে চাইলে জেলেরা বাধা দেয়। এ নিয়ে এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলেদের উপর অপর ট্রলারের জেলেদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে অন্য দুটি ট্রলারের (নাম বিহীন) জেলেদের ডেকে এনে মনির আকনের ট্রলারের জেলেদের ওপর শিকল নিক্ষেপ করে। এতে ৪ জেলে আহত হয় এবং ২ জেলে ট্রলার থেকে পড়ে নিখোঁজ হয়।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, মাছ ধরার সময় মনির আকনের মালিকানা ট্রলারের জালে পেচানো নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তিনটি ট্রলারের জেলেরা মনির আকনের ট্রলারের হামলা করে। এতে ৪ জন আহত হয় এবং ২ জন নিখোঁজ হয়। আহতদের পাথরঘাটা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিখোঁজ দুই জেলের সন্ধান মেলেনি।
ট্রলারের মালিক ও মাঝি মনির আকন বলেন, আমরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় এফবি মুন্না নামে একটি ট্রলিং ট্রলার আমাদের জালের ওপর উঠিয়ে দেয়। বাধা দিলে হামলাকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। আমরা ট্রলার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও দুটি ট্রলিং ট্রলার আমাদের ঘিরে ফেলে। পরে তারা ট্রলারে উঠে শিকল নিক্ষেপ করে এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে।
মনিরের অভিযোগ, হামলাকারীরা ট্রলার থেকে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, তারা ট্রলারের জালও কেটে নিয়ে গেছে।
পাথরঘাটা উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাত রয়েছে, তবে ঝুঁকিমুক্ত।
পাথরঘাটা থানার ওসি মংচেলা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করা হচ্ছে।
