Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

ওষুধ দোকানির ‘লোভের’ খেসারত দিচ্ছে শিশু কাওছার

Icon

নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

ওষুধ দোকানির ‘লোভের’ খেসারত দিচ্ছে শিশু কাওছার

ফোরকান হোসেন ও কাওছার।

ঝালকাঠির নলছিটিতে ওষুধ দোকানির ‘লোভের’ খেসারত দিচ্ছে কাওছার হোসেন (৭) নামে এক শিশু । বর্তমানে সে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কাওছার উপজেলার পূর্ব পাওতা গ্রামের ফোরকান হাওলাদারের ছেলে এবং পাওতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত ফোরকান হোসেন এক সময় ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। বর্তমানে তিনি ওষুধের দোকান দিয়ে খতনাসহ বিভিন্ন চিকিৎসা দেন।    

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে শিশু কাওছারকে সুন্নতে খতনা করানোর জন্য তার বাবা-মা নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে রওনা দেন। শহরে পৌঁছে বাইপাস মোড়ে অভিযুক্ত ফোরকান হোসেনের সাইবোর্ড তাদের দৃষ্টিগোচর হয় তাদের। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০০ গজ দক্ষিণে ফোরকান হোসেনের ফার্মেসিতে গিয়ে আলাপ করেন কাওছারের বাবা-মা। এ সময় অভিযুক্ত ফোরকান তাদের বলেন- ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে খরচের পরিমাণ বেশি হবে’। তিনি কম খরচে খতনা করে দেবেন। ওইদিন বিকালে আখড়পাড়া বাজারে তার শ্বশুর বেল্লাল হোসেনের ফার্মেসিতে আসতে বলেন। 

কথা অনুযায়ী ওইদিন বিকাল ৫টায় ছেলেকে নিয়ে ফার্মেসিতে যান ফোরকান। সেখানে অভিযুক্ত ফোরকান হোসেন শিশু কাওছারের খতনা করেন। একদিন পর কাওছারের প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হয় এবং প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। কাওছারের বাবা ওই ওষুধ দোকানিকে জানালে তাকে নান্দিকাঠি বাইপাস মোড়ে চেম্বারে আসতে বলেন। ওই চেম্বারে গেলে অভিযুক্ত ফোরকান অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ লিখে দিয়ে বলেন, ‘এটা খাওয়ালে আপনার ছেলে ভালো হয়ে যাবে’। তবে ওষুধগুলো খাওয়ানোর পরেও কোনো উন্নতি না হলে অভিযুক্তকে আবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। 

এদিকে কাওছারের অবস্থার আরও অবনতি হলে ১ মার্চ বিকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফ মল্লিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে পর্যবেক্ষণের জন্য কাওছারকে আধাঘণ্টা অক্সিজেন দিয়ে রাখেন চিকিৎসক। তাতেও কোনো উন্নতি না হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে থেকে কাওছারকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) পাঠানো হয়। সেখানেও সিট সংকটের কারণ দেখিয়ে কাওছারকে ভর্তি করা হয়নি। পরে নিরুপায় হয়ে তেজগাঁওয়ের বেসরকারি কিউর স্পেশালিস্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধের পর শিশুটিকে ভর্তি করানো হয়।

হাসপাতাল সূত্রের বরাতে ইউপি সদস্য আরিফ মল্লিক জানান, শিশুটি গুরুতর অবস্থায় আইসিইউতে রয়েছে। তার শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। 

তিনি আরও বলেন, এর আগেও ওষুধ দোকানি ফোরকানের নামে উপজেলায় অনেক অভিযোগ পেয়েছি। তার শাস্তি হওয়া দরকার।

কাওছারের বাবা ফোরকান হাওলাদার বলেন, আমি অসহায় দিনমজুর। আমার সরলতার সুযোগে ওষুধ দোকানি ফোরকানের এমন অন্যায় কাজের বিচার চাই। তিনি ডাক্তার না হয়েও নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আমার ছেলে এখন মৃত্যুশয্যায়। আমি এর বিচার চাই।

এ ঘটনা জানতে পেরে সংবাদকর্মীরা বাইপাস মোড়ে ওই ডাক্তারের ফার্মেসিতে গেলে তিনি সটকে পড়েন। তার মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি

এ ব্যাপারে ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের অপচিকিৎসার কোনো সুযোগ নাই। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .