ইরানের মিসাইল হামলায় নিহত মোশারফের বাড়িতে মাতম
যুগান্তর প্রতিবেদন, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অভাবের সংসারটা একটু ভালো করার স্বপ্ন নিয়ে ৮ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা গ্রামের মোশাররফ হোসেন (৪০)। আল খারিজ শহরের পাশে একটি কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ করতেন তিনি; কিন্তু কর্মরত অবস্থায় ইরানের মিসাইল হামলায় থেমে গেল তার জীবন সংগ্রাম।
মোশাররফ হোসেনের বাবা মো. সূর্যত আলী। পরিবারে রয়েছে দুই ছোট ছেলে—বড় ছেলে মাহিম (১৪) স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ছোট ছেলে মিহান (৭) প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। তিন বছর আগে মাত্র তিন মাসের জন্য ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। এরপর আবার ফিরে গিয়েছিলেন সংসারের হাল ধরতে।
মোশারফের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। মা জহুরা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। ছোট ছেলে মিহান নানার কোলে বসে অবাক দৃষ্টিতে চারপাশের মানুষের কান্না দেখছে—হয়তো এখনো বুঝে উঠতে পারেনি, তার বাবা আর কোনোদিন ফিরবেন না।
সোমবার কীর্তনখোলা গ্রামে মোশারফের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি ছিল বেশি। বাড়িতে তার মা, একমাত্র বোন মোর্শেদা এবং স্ত্রী কবরী আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। প্রতিবেশী ও স্বজনেরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
রোববারও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল। স্ত্রী কবরী আক্তার জানান, রাতে কথা হয়েছিল স্বামীর সঙ্গে। বলেছিলেন ঈদের জন্য টাকা পাঠাবেন, ছেলে দুটির জন্য কিছু কিনতে; কিন্তু কে জানতো সেই কথাই হবে শেষ কথা! রাত প্রায় ৩টার দিকে খবর আসে—মোশাররফ হোসেন আর নেই।
তিনি বিলাপ করে বলেন, এখন এই দুই সন্তান নিয়ে আমি কিভাবে চলব? আমাদের এখন কে দেখবে?
মোশারফের বাবা সুজাত আলী বলেন, আমার ছেলেকে তো আর দেখতে পাব না। এখন অন্তত তার লাশটা দেশে ফেরত চাই। যেন শেষবারের মতো তাকে দেখতে পারি। দ্রুত ুিলাশ দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।
নিহতের বড় ছেলে মাহিম জানায়, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়। তখন তার বাবা বলেন, ঈদের কাপড়চোপড় কেনার জন্য যা লাগে তা কিনে নিতে। তিনি ইফতারের পর টাকা পাঠাবেন বলেও জানান। কিন্তু ইফতারের সময়ই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তার বাবা নিহত হন।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল রনী। তিনি জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
একজন প্রবাসীর স্বপ্ন ছিল শুধু—পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো। কিন্তু দূর প্রবাসে মিসাইলের আঘাতে থেমে গেলো সেই স্বপ্ন, নিঃস্ব করে দিয়ে গেলো একটি পরিবারকে।
সৌদি আরবে একটি আবাসিক ভবনে মিসাইল হামলায় টাঙ্গাইলের সখীপুরের মোশারফ হোসেন নিহত হয়েছেন। রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে সৌদি আরবের আল-খার্জ গভর্নরেটের একটি কম্পাউন্ডের আবাসিক ভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার তথ্য জানিয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব যান মোশারফ হোসেন।
