|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জয়পুরহাটের কালাইয়ে আলুর দাম কমলেও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে আলু রাখার বস্তার দাম। একে তো আলুর বাজার ধসের শিকার তার ওপর বেশি দামে বস্তা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন আলু চাষিরা। এতে আলু নিয়ে দ্বিমুখী চাপে পড়েছেন কৃষকরা।
প্রতি মণ আলু বিক্রি হচ্ছে জাত ভেদে ২৮০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা। অন্যদিকে গত তিন মাসের ব্যবধানে প্রতি বস্তার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। আর গত এক সপ্তাহের ব্যবধানেই বেড়েছে ১৫ টাকা।
কৃষকদের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষে সার, বীজ, সেচ, নিড়ানি ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০-৩২ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে আলুর বাজার দর পতনের কারণে প্রতি বিঘার আলু বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।
এ অবস্থায় আলুর দাম কম হওয়ায় একটু বেশি লাভের আশায় হিমাগারগুলোতে আলু মজুদ রাখার জন্য বস্তা কিনতে গিয়ে কৃষকরা পড়েছেন মহাবিপাকে। গত বছর প্রতি বস্তার মূল্য যেখানে ছিল ৮০ টাকা এখন সেখানে গুনতে হচ্ছে ১১৫ টাকা।
কালাই উপজেলার বেগুনগ্রামের আবুল হাসনাত সাজ্জাদ, পৌরসভার মুন্সিপাড়ার তহিদুল হক, থুপসাড়ার মহল্ল্যার জামরুল ইসলাম, ধাপকাথাইলের রাশেদুল ইসলামসহ অনেকে অভিযোগ করেন, আলুর দাম কমে যাওয়ায় এবং বস্তার দাম বেশি হওয়ায় আলু চাষিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। দেশে উৎপাদিত পাটের আঁশ থেকে দেশেই উৎপাদন হয় বস্তা। তারপরও কী কারণে বস্তার দাম বেড়েই চলছে, তা তাদের বোধগম্য নয়।
পুনট গ্রামের বেলাল হোসেন ক্রোধ নিয়ে বলেন, একদিকে আলুর দাম নাই, অন্যদিকে বস্তার দাম বেশি, এভাবে চলতে থাকলে আর পরবর্তীতে আলুর দাম পাওয়া না গেলে আলুতেও ধরা খাব আর বস্তার টাকাও জলে যাবে, তার চেয়ে ভালো আলুই আর চাষ করব না।
জয়পুরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি অনোয়ারুল হক আনু জানান, বর্তমানে পাটের মজুত কমে গেছে, কিন্তু পাটজাত দ্রব্য বিশেষ করে চটের চাহিদা বেড়েছে বলেই দাম কিছুটা বেশি। তারপরও আমরা এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলব, যাতে আলুচাষিরা উপকৃত হন।
কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা জানান, বিষয়টি শুনলাম বিনা কারণে যদি বস্তার দাম বৃদ্ধি করা হয় তাহলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
