যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর
লিফট ছাড়াই চালু হচ্ছে পিরোজপুর ২৫০ শয্যার হাসপাতাল
পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লিফট ছাড়াই চালু হবে পিরোজপুর ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল। মঙ্গলবার সকালে পিরোজপুরে জেলা হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির এক সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।
দৈনিক যুগান্তরে ৮ মার্চ ‘ভবন প্রস্তুত, সেবা আটকে আছে চার লিফটে’ এ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন বলেছেন, রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে লিফট ছাড়াই স্বল্প পরিসরে চালু হবে পিরোজপুর ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল। আগামী ৩০ এপ্রিল অথবা ১৫ মের মধ্যে পিরোজপুর ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের ৪টি ফ্লোর চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক যুদ্ধ প্রস্তুতির কারণে লিফট আসতে সময় লাগছে। আগামী আগস্ট মাসে লিফট আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। তাই আমরা লিফট আসার অপেক্ষা না করে এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই চারটি ফ্লোর স্বাস্থ্যসেবার জন্য চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, চিকিৎসক স্বল্পতা বাংলাদেশের প্রতিটি হাসপাতালে রয়েছে, তারপরও আমরা আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজন বিবেচনায় চিকিৎসক নিয়োগ এবং যেসব যন্ত্রপাতিতে সমস্যা রয়েছে তা স্থানান্তর করে আশা করছি আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি ভালো সেবা নিশ্চিত করতে পারব।
এর আগে জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির বিভিন্ন সদস্যদের নিয়ে সভা করেন তিনি। সভায় পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল আউয়াল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমতসহ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির বিভিন্ন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম এ হাসপাতালটির আড়াইশ শয্যার হাসপাতাল ঘোষণা দেন। পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগ টেন্ডারের পরে শুরু হয় ৭ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ। পরে সম্প্রসারণ করা হয় আরও ২ তলা। ২০২০ এর জুনে শেষ হবার কথা থাকলেও করোনা মহামারীর কারণে তিন দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয় ভবন নির্মাণকাজ।
নির্মাণ কাজ শেষ হলেও গত দুই বছরে লিফট সংযোগ না দেওয়ায় হস্তান্তর হচ্ছে না ভবনটি। ফলে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি নিয়ে দুর্ভোগের শিকার হতে হয় বর্তমান ১০০ শয্যার হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, রোগী ও তাদের স্বজনদের।
