গাড়ি-বাড়িসহ বিপুল অবৈধ সম্পদের খোঁজ
সাবেক এমপি মহারাজ ও স্ত্রী-ছেলের নামে দুদকের ৩ মামলা
পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ১১:০২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পিরোজপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ-সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং পুত্র শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়।
মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন।
সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের আদেশমূলে আসামি মহারাজ, স্ত্রী উম্মে কুলসুম ও পুত্র শাম্মাম ইফতির সব স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ফ্রিজ করা হয়েছে।
দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, মহিউদ্দিন মহারাজের বিরুদ্ধে ১২২টি দলিলে জমি, বাড়ি, ফ্লাট, মার্কেট ও দোকানের মূল্য ২৭ কোটি, ৮৫ লাখ টাকাসহ আরও রয়েছে দুটি বিলাসবহুল গাড়ি। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে ৫৪ কোটি, ৭৯ লাখ ৭৪৯ টাকার সম্পদের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় মাত্র ৩ কোটি, ৫১ লাখ, ৬৮ হাজার, ১১৮ টাকার বেশি স্থানান্তর, হস্তান্তর বা লেনদেনের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং এবং এর সঙ্গে পুত্র ইফতিও মামলার আসামি।
মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে- সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের আদেশমূলে আসামি মহিউদ্দিন মহারাজের নামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ফ্রিজ করা হয়েছে।
অপরদিকে দুদকের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধে আরও মামলা করেছেন। ওই মামলায় গৃহিণী স্ত্রী ও পুত্র ইফতিকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে অবৈধ আয়কে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চালান মহারাজ। সূত্র বলছে, আসামি স্ত্রী উম্মে কুলসুম জমি, ফ্লাট ও দোকানসহ ১ কোটি ৬৬ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ও ৬ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৮৪২ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। আসামি উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধে অসাধু উপায় অর্জিত ও তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
এদিকে মহারাজের আসামি পুত্র শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম এজাহারে উল্লেখ করেন, ইফতির নামে জমি, দোকান ক্রয় বাবদ স্থাবর সম্পদ ও অস্থাবর সম্পদ বাবদ মোট ২ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ৬৭৬ টাকা সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়। দুদকের মামলার আসামি ইফতি একজন ছাত্র হওয়ায় তার নিজের আয়ের কোনো উৎস নেই।
প্রকৃতপক্ষে, তার পিতা আসামি মহিউদ্দিন মহারাজ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উপার্জিত অপরাধলব্ধ আয় থেকে তার পুত্র শাম্মাম জুনাইদ ইফতির নামে অর্জিত আয় দেখিয়ে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৫৩ হাজার ১৯২ টাকা অবৈধ আয়ের উৎস অসদুদ্দেশ্যে গোপন বা আড়াল করায় মহিউদ্দিন মহারাজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারাসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর (৪)২ ও (৪)৩ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
