Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

ডিজেল সংকট, সাগরে যেতে পারছে না মাছ ধরার ট্রলার

Icon

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

ডিজেল সংকট, সাগরে যেতে পারছে না মাছ ধরার ট্রলার

বরগুনার পাথরঘাটায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর বিএফডিসি মৎস্য বন্দর। প্রতিদিন জেলেরা এ বন্দরে মাছ বিক্রি করে ট্রলারে রসদসামগ্রী নিয়ে ছুটে যান সাগরে।

গত ৩ দিন ধরে পাথরঘাটায় ডিজেল সংকটের কারণে শত শত ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না। ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে এ সংকট জেলে পরিবারে প্রভাব দেখা দিয়েছে। তেলের ডিপোগুলোতে প্রশাসনের নজরদারির দাবি জানিয়েছেন জেলেরা।

পাথরঘাটার ট্রলার ব্যবসায়ী মাসুম কোম্পানি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ইরান-ইসরাইল-আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার খবরে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ সুযোগে পাথরঘাটার বাজারে তেল ব্যবসায়ীরা চড়া দামে তেল বেচার জন্য মজুতদারি শুরু করেছে। গত ৩ দিন ধরে কোনো মহাজনের কাছে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বিভিন্ন খালের মধ্যে শত শত ট্রলার মাছ বিক্রি করে ট্রলারগুলো ঘাটে বেঁধে রেখেছে।

স্থানীয় জেলে জাকির বিশ্বাস বলেন, দোকানগুলোতে তেল মজুত আছে, কিন্তু আমরা কিনতে চাইলে বলে তেল নেই। লিটারে ২০ টাকা বাড়তি দিলে ডিজেল পাওয়া যায়। ভেবেছিলাম ঈদের আগে মাছ ধরে ভালো টাকা পাব এবং পরিবার নিয়ে ঈদে উৎসবটা ভালো হবে। কিন্তু মনে হচ্ছে এ বছর আর সেই আশা পূরণ হবে না।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী তিনি জানান, পাথরঘাটার বিভিন্ন জ্বালানি তেলের দোকানে পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি দামের আশায় তেল গোপনে মজুত করে রেখেছে। এর ফলে সমুদ্রগামী ট্রলারগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে ঘাটে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, পাথরঘাটা তেল ব্যবসায়ী ফারুক ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী ফারুক হাওলাদার জানান, বর্তমানে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের ডিপো থেকে কোটাভিত্তিক তেল সরবরাহ করা হয়। পাথরঘাটায় প্রতি সপ্তাহে ডিজেল চাহিদা ২ থেকে আড়াই লাখ লিটার সেখানে এখন ৫টি ফিলিং স্টেশনে ডিজেল আসে ৫ হাজার লিটার। এ কারণে আমারা ডিজেল সরবরাহ করতে পারছি না। যাদের ২-৪ লিটার ডিজেল দরকার তাদের কাছে আমরা তেল বিক্রি করি। তবে গ্রামে কিছু দোকান আছে যাদের কোনো লাইসেন্স নাই তারা কিছু ডিজেল বা পেট্রল মজুত করতে পারে বলে তার ধারণা।

বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার জানান, যদি কোনো অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে তবে তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .