Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

গুরুদাসপুরে অসুস্থ গরুর মাংস খেয়ে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৮

Icon

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

গুরুদাসপুরে অসুস্থ গরুর মাংস খেয়ে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৮

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ দপ্তর। ছবি: যুগান্তর

নাটোরের গুরুদাসপুরে অসুস্থ গবাদিপশুর মাংস থেকে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা জাতীয় রোগ আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৮ জন। তাদের মধ্যে ৩ জনকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

উপজেলার চলনালী গ্রামে মোট আট জনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অ্যানথ্রাক্স উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়াদের মধ্যে ছানারুল সরকার নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ওই গ্রাম থেকে নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস। তাছাড়া রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে শনিবার একটি বিশেষ দল ওই এলাকা পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

আক্রান্ত ব্যক্তিরা হলেন- গোলাম মোস্তফা চুন্টু সরকার, ছানারুল সরকার, আসাদ মোল্লা, লাভলি বেগম, রাহুল সরকার, আবদুর রহিম সরকার, আলতাব হোসেন ও খাদিজা বেগম। আক্রান্তরা চিকিৎসাধীনে রয়েছে। 

শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ দপ্তরের ডেপুটি চিফ ইপিডেসিওলজিস্ট ডা. মকলেছুর রহমান, নাটোর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেলিম, গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রোকনুজ্জামান প্রমুখ। এ সময় জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য ওই গ্রামে একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রোকনুজ্জামান। 

বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ দপ্তরের ডেপুটি চিফ ইপিডেসিওলজিস্ট ডা. মকলেছুর রহমান, নাটোর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেলিম, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে গুরুদাসপুর উপজেলা সদরের অদূরের চলনালী গ্রামের আবদুল গফুরের অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু জবাই করা হয়। এরপর থেকে ওই গরুটি জবাইয়ের সঙ্গে জড়িত ৮ ব্যক্তির শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। আক্রান্তরা সবাই চলনালী গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবদুল কাদের বলেন, প্রথমে ছানারুলের মুখমণ্ডলে ফোসকা বের হয়। এরপর একদিনের ব্যবধানে আরও ৭ ব্যক্তির শরীরে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায়।

অ্যানথ্রাক্স উপসর্গে অসুস্থ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুবক রাহুল যুগান্তরকে বলেন, পরিবারের মধ্যে আমি এবং আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আমার বাবার মুখে বামপাশ থেকে চোখেও সংক্রমণ হয়েছে।

এদিকে অ্যানথ্রাক্স উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি জানাজানির পর গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি দল রোগীদের চিকিৎসা দিতে বৃহস্পতিবার চলনালী গ্রামে যায়। ওই টিমের চিকিৎসক অহিদুজ্জামান বলেন, রোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর আগেও গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের চক-আদালত-খাঁ ও মামুদপুর গ্রামের ১২ ব্যক্তি ‘অ্যানথ্রাক্স’ আক্রান্ত হয়েছিলেন।

ওই গ্রামে অ্যানথ্রাক্স উপসর্গে আক্রান্তদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, গরুটি তড়কা রোগে আক্রান্ত ছিল। ওই গরু লালন পালন ও জবাইর সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তারাই আক্রান্ত হয়েছে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমাছ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা বিবেচনায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম