কাজের মধ্যেই ঈদের আনন্দ খুঁজে নেন যারা
আব্বাস হোসাইন আফতাব, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গোটা দেশ যখন ঈদের আনন্দে মেতে ওঠে, তখন অনেকেই পরিবারের সঙ্গে কাটান প্রিয় সময়। কিন্তু সবার ভাগ্যে সেই সুযোগ জোটে না। ঈদের ছুটিতেও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয় অনেককে। রাঙ্গুনিয়াতেও এর ব্যতিক্রম নয়। তাদের কাছে ঈদের দিনও অন্য দিনের মতোই কর্মব্যস্ত।
ঈদের সকাল থেকেই রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ সদস্য, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীলরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাদের নিরলস পরিশ্রমেই সচল থাকে এলাকার জরুরি সেবা। মানুষের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা থাকেন সর্বদা প্রস্তুত।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি আরমান হোসেন বলেন, ঈদের সময় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সবাই যাতে নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ না পেলেও মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকাটাই আমাদের কাছে বড় আনন্দ।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ রাঙ্গুনিয়া জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম (ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার) মোহাম্মদ ফয়সাল হোসেন বলেন, ঈদের দিনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমাদের টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে আমরা প্রস্তুত। গ্রাহকদের স্বস্তি আর হাসিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। পার্শ্ববর্তী উপজেলার বিদ্যুৎ অফিসের প্রধান এবার ছুটিতে থাকায় রাঙ্গুনিয়ার পাশাপাশি সেখানেও ঈদের দিন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের রাঙ্গুনিয়া স্টেশনের টিম লিডার ও ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মো. জাহেদুর রহমান বলেন, ঈদের দিনেও আমরা সবসময় প্রস্তুত থাকি যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবেলায়। মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই আমাদের প্রথম দায়িত্ব। ঈদের আনন্দ সবার জন্য নিরাপদ রাখতে আমরা মাঠে কাজ করছি।
তিনি বলেন, মানুষের সেবাকেই যারা ব্রত হিসেবে নিয়েছেন, তাদের মধ্যে আক্ষেপের চেয়ে দায়িত্ববোধই বেশি। স্বজনদের থেকে দূরে থাকার কষ্ট থাকলেও, অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে পারার আনন্দেই তারা খুঁজে পান ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য।
রাঙ্গুনিয়ায় কর্মরত এসব নীরব যোদ্ধারাই আমাদের ঈদের আনন্দকে করে তোলেন নিরাপদ ও স্বস্তির।
