Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

সালিশে চোর সাব্যস্ত করায় যা করলেন নারী

Icon

গলাচিপা দক্ষিণ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

সালিশে চোর সাব্যস্ত করায় যা করলেন নারী

পুত্রবধূর সঙ্গে সেলিনা বেগম (ডানে)

গলাচিপায় চুরির অপবাদ সইতে না পেরে সেলিনা বেগম (৫০) নামের এক নারী গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।

রোববার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে।

সূত্র জানায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা সেলিনা বেগম দীর্ঘ দিন যাবত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে ছেলে ও ছেলে স্ত্রী নিয়ে বসবাস করত। মাস দুয়েক আগে বেড়িবাঁধে সংস্কার কাজের জন্য উচ্ছেদ হয়ে পাশে ঝুপড়ি দিয়ে বসবাস করতেন। কয়েক দিন আগে থেকে পাশের বাড়ির আল আমীন মাস্টারের ঘরের বারান্দায় রাতে ঘুমাতেন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ওই ঘর থেকে আলমগীরের স্ত্রীর ১২ আনা স্বর্ণ ও ৪ ভরি রুপার গহনা হারায়। এ ঘটনায় আলমগীর ও তার পরিবার সেলিনা বেগমকে সন্দেহ করে ওই দিন  সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন সিরাজুল সিকদারের বাড়িতে সালিশ বৈঠকে বসে। সালিশ বৈঠকে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চাল পড়া খাওয়ায়ে সেলিনাকে চোর সাব্যস্ত করা হয়।

সেলিনার ছেলে ইফাজুল ইসলাম (২২) অভিযোগ করে বলেন, সালিশ বৈঠকে জসিম খান, রিয়াজ খান, নেওয়াজ সিকদার, মিজান সিকদার, শামীম সিকদারসহ ৪-৫ জন আমার মাকে মারধর করে চাল পড়া খাওয়ায়ে স্বীকারোক্তি নিয়ে ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে আমার মা, আমার স্ত্রী ও আমার স্বাক্ষর নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী নুরজাহান বেগম (৫৫) জানান, সিকদার বাড়ির লোকজন সেলিনাকে মারধর ও প্লাস দিয়ে নখ তুলে ফেলার ভয় দেখায়।

ওই এলাকার বাসিন্দা মোশারফ মুন্সি (৫৫) জানায়, দীর্ঘ দিন যাবত সেলিনা অন্যের বাড়িতে কাজকর্ম করে ছেলেকে নিয়ে সংসার পরিচালনা করত। কখনো শুনি বা দেখিনি সেলিনা চুরি করেছে।

সেলিনার ছেলে ইফাজুল ইসলামের স্ত্রী সারমিন আক্তার জানায়, আমরা পাশের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। ভোর পৌনে ৬টার দিকে শাশুড়ি আমার স্বামীর ফোনে মিস কল দেয়। ফোনে টাকা না থাকায় আমরা ঘরে এসে দেখি মারা গেছে। সালিশদারদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুরি হাওয়া সোনা ও রুপা আজকে দেওয়ার কথা ছিল। আমার শাশুড়ি চুরির অপবাদ সইতে না পেরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছে।

সালিশদার সিরাজুল সিকদার ৩শ টাকার স্ট্যাম্প রাখার কথা স্বীকার করে বলেন, সেলিনাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি।

চুরি হওয়া সোনার মালিক আলমগীর মাস্টার জানায়, ১৭ মার্চ থেকে আমার স্ত্রীর কিছু গহনা হারিয়েছে। আমি স্থানীয় লোকজনকে চুরির বিষয় জানালে তারা সেলিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেলিনা চুরির বিষয় স্বীকার করে, আজকে চুরির মালামাল ফেরত দেওয়ার কথা ছিল।

গলাচিপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝিলন সিকদার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .