Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

সুনামগঞ্জ শহরে আগুনে পুড়ল ১১ দোকান

Icon

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম

সুনামগঞ্জ শহরে আগুনে পুড়ল ১১ দোকান

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কেন্দ্রস্থল ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকার হক মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ১১টি দোকান ভস্মীভূত হয়ে প্রায় ৭-৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রোববার (২৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দমকল বাহিনীর ৫টি ইউনিট প্রায় প্রায় দুই ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ততক্ষণে ১১টি দোকানের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একটি বাসগৃহ আগুনে ব্যাপক  ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কিভাবে আগুনের সূত্রপাত এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কেউ বলছেন মার্কেটের পেছন লাইটারের গোডাউন থেকে আগুনের উৎপত্তি। আবার কেউ কেউ বলছেন একটি জুতার দোকানের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাত ১১টার দিকে দোকানিরা তাদের দোকান বন্ধ করে চলে যাওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে আগুনের সূত্রপাত হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে মার্কেটটিতে আগুনের শিখা জ্বলতে দেখা যায়। মুহূর্তেই তা আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দাউ দাউ করে জ্বলতে জ্বলতে থাকে আগুন। দোকানের মালিক বা কর্মচারী কেউ তখন মার্কেটের ভেতর ছিলেন না। ফলে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় কারো পক্ষেই দোকানের মালামাল কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বের করা সম্ভব হয়নি। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবির সম্মিলিত চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, অগ্নিকাণ্ডে তাদের ১০-১১টি দোকান পুড়ে প্রায় ৭-৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক পণ্য ও জুতার দোকানই ছিল বেশি। এছাড়া মার্কেট সংলগ্ন একটি  বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও একটি বাসগৃহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, আগুন নেভাতে গিয়ে আমাদের পানির সংকট মোকাবেলা করতে হয়েছে। আশপাশে কোনো পানি ছিল না। প্রথমে গাড়িতে থাকা পানি দিয়েই আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। পরে শহরের কালীবাড়ি, সদর থানার পুকুর ও দোজা মার্কেটের পাশে থাকা আরেকটি পুকুর থেকে পাইপে পানি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।

সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জালাল আহমেদ জানান, আমরা খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে আসি। এসে বুঝতে পারি আগুনের তীব্রতা খুব বেশি। যার কারণে আমরা পার্শ্ববর্তী উপজেলা শান্তিগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর ইউনিটকে খবর পাঠাই পরবর্তীতে আমাদের তিন ইউনিট ও দুই উপজেলার দুটি ইউনিটসহ মোট ৫টি ইউনিট একত্রে কাজ করে প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

তিনি জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে আমরা ধারণা করছি। তবে কোথা থেকে উৎপত্তি তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান বলেন, সুনামগঞ্জ শহরে এ রকম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ইতোপূর্বে আর ঘটেনি। এতে ১০-১১টি দোকান পুড়ে সবকিছু ছাই হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা একবারে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারি সহায়তা প্রদানের দাবি জানান।

এদিকে সোমবার সকালে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিযাস মিয়া ও পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .