সাবেক স্বামীর সঙ্গে প্রেম, দ্বিতীয় স্বামীকে গলা কেটে হত্যা করেন জোছনা
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১১:০২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাবনার বেড়া উপজেলায় চাঞ্চল্যকর রিকশাচালক ফজলুর রহমান (৫৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সাবেক স্বামীর সঙ্গে পুনরায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠায় দ্বিতীয় স্বামী ফজলুর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যা করেন স্ত্রী জোছনা খাতুন।
হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর সোমবার (৩০ মার্চ) ভোররাতে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বেড়া মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নিহতের স্ত্রী মোছা. জোছনা খাতুন (৪৪), জোছনার প্রাক্তন স্বামী ও ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত মো. মানিক (৪৭) এবং হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী মানিকের সহযোগী মো. খোকন প্রামাণিক (৪২)।
পুলিশ জানায়, গত ২০ মার্চ ২০২৬ বেড়া পৌরসভার বড়শিলা গ্রামের একটি ধানখেত থেকে ফজলুর রহমানের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি হাতিগাড়া ক্যানেল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন। ঘটনার দিন তার লাশ ও ব্যবহৃত রিকশাটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরবর্তীতে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান, বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক লাবলুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ ১০ দিনের নিবিড় তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান জানান, জোছনা নিহত ফজলুর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রী। জোছনা খাতুনের সঙ্গে তার প্রাক্তন স্বামী মানিকের দীর্ঘদিনের গোপন সম্পর্ক বা পরকীয়া চলছিল। এ সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় এবং পারিবারিক কলহের জেরে ফজলুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে মানিক ও তার সহযোগী খোকন প্রামাণিক ফজলুর রহমানকে কৌশলে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে স্ত্রী জোছনা খাতুনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফজলুরকে গলা কেটে হত্যা করে লাশ ধানখেতে ফেলে তারা পালিয়ে যান।
গ্রেফতার তিন আসামিকে সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান।
