Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

জয়পুরহাটে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ

২ দিনে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক শিশু

Icon

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৩ এএম

জয়পুরহাটে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ

ছবি- যুগান্তর

জয়পুরহাটে হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। গত দুই দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শতাধিক শিশু জয়পুরহাট জেলা শহরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এসব রোগীর চাপে হাসপাতালের তৃতীয় তলার ডায়রিয়া ওয়ার্ডটিকে নিচতলায় স্থানান্তর করেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে রোগীদের অনেককে হাসপাতালের ওয়ার্ডের মেঝে ও করিডোরে আশ্রয় নিতে হয়েছে। এখন সেখানেই চলছে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা। 

বুধবার দুপুরে সরেজমিন ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালটির নিচতলার বেডেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক রোগীকে মেঝেতে আশ্রয় শয্যা পেতে (বিছানা বিছিয়ে)আশ্রয় নিতে হয়েছে। সেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীদের স্যালাইন পুশসহ দেয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় সেবা। এমনিভাবে হাসপাতালটির পুরো ওয়ার্ড ছাপিয়ে করিডোর পর্যন্ত এখন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হওয়ায় কিছু রোগী ফিরেও গেছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

ওই হাসপাতালের দেওয়া তথ্য অনুসারে, বুধবার এ রিপোর্ট লেখার সময় গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে ডায়রিয়া আক্রান্ত ৫৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। আর আগের দিন মঙ্গলবার ভর্তি হয়েছিল  ৪০ জনেরও বেশি রোগী। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অধিকাংশ শিশুর বয়স ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে। 

জয়পুরহাটের সদর উপজেলার হরিপুর গ্রাম থেকে ডায়রিয়া আক্রান্ত ২ শিশু সন্তান নিয়ে এ হাসপাতালে আসা আবু বকর সিদ্দিক জানান, তার সাড়ে ৪ বছর ও দেড় বছরের দুই ছেলে হঠাৎ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি  এ হাসপাতালে এনে ভর্তি করিয়েছেন। তার মতো আরও অনেকেই ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে এ হাসপাতালে এসেছেন। 

মঙ্গলবার রাতে পার্শ্ববর্তী জেলা নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ইছবপুর গ্রাম থেকে ২ বছরের শিশু আব্দুর রহমানকে এ হাসপাতালে এনে ভর্তি করিয়েছেন শিশুটির মা জলি আকতার। ছেলের অসুখ সম্পর্কে তিনি বলেন, হঠাৎ করেই তার ছেলে (শিশুসন্তান) ঘন ঘন পাতলা পায়খানা ও বমি করতে শুরু করে। উপায়ন্তর না দেখে ভয়ে রাতেই ছেলেকে নিয়ে এ হাসপাতালে এনে ভর্তি করিয়েছেন। দুই ব্যাগ স্যালাইন পুশ করার পর এখন তার ছেলে আব্দুর রহমান  অনেকটা ভালো আছে । তবে কী কারণে তার ছেলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে তা তিনি বলতে পারেননি।

ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী গ্রাম থেকে আসা নাঈম হোসেন বলেন,তার দেড় বছরের শিশু নওয়াজ গত সোমবার হঠাৎ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে ছেলে অনেকটাই সুস্থ হয়েছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) তাকে হয়তো রিলিজ দেওয়া হবে। 

জয়পুরহাটের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন,হঠাৎ করেই হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় এসব রোগীকে হাসপাতালের নিচতলায় তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। খাবারের ত্রুটি থেকেই এর ব্যাপকতা বেড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসা গ্রহণের পর এসব রোগী সুস্থ হয়ে উঠছে। অনেকে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .