পঞ্চগড়ে এপ্রিলেও শীতের আমেজ, ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে পুরো এলাকা
Advertisement
এসএ মাহমুদ সেলিম, পঞ্চগড়
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
পঞ্চগড়ে এপ্রিলেও শীতের আমেজ, ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে পুরো এলাকা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় এখন যেন একখণ্ড দার্জিলিং। বর্তমানে পঞ্চগড়ের আবহাওয়ার সঙ্গে ভারতের দার্জিলিংয়ের আবহাওয়ার যেন তেমন কোনো পার্থক্যই নেই।
ভোরে ঘন কুয়াশার সঙ্গে শীতল হাওয়া সেই রকমই অনুভূত হচ্ছে। তাই তো পঞ্চগড়ে বর্তমানে বিরাজ করছে এক অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতি। যদিও আবহাওয়ার এমন বিচিত্র আচরণে স্থানীয়রা রীতিমতো বিস্মিত।
সাধারণত পঞ্চগড়ে ফেব্রুয়ারিতেই শীত বিদায় নিতে শুরু করে। মার্চ ও এপ্রিল মাসে তেমন শীত থাকে না; কিন্তু এবার মার্চের শেষ দিকেও ভোররাত থেকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে হাল্কা শীত অনুভূত হচ্ছে। আর গত কয়েক দিনের আবহাওয়া দেখে স্থানীয়দের কাছে মনে হচ্ছে শীত যেন আবারও ফিরে আসতে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত পঞ্চগড়ের পুরো এলাকা ছিল ঘন কুয়াশায় ঢাকা। ঘন কুয়াশার কারণে পঞ্চগড়-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কসহ সব সড়কেই যানবাহনগুলো হেডলাইড জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
শুধু তাই নয়, কুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিল রাস্তাঘাট মাঠ-ফসলি জমি ও গাছপালা। কৃষিজমি ও ঘাসের ডগায় শীতের মতো বিন্দু বিন্দু শিশির কণা লক্ষ্য করা গেছে। পঞ্চগড়ে এপ্রিলের প্রথম ভোরেই যেন শীতের আমেজ।
এদিকে এ মৌসুমে হঠাৎ কুয়াশার কারণ সম্পর্কে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, বায়ুমণ্ডলে আদরটা বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রা কমে গিয়ে জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হওয়াই মূলত এর প্রধান কারণ। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে ভূ-পৃষ্ঠের কাছাকাছি এসে শীতলতার সংস্পর্শে যখন আসে ঠিক তখনই জলীয় বাষ্প জমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়। আর এসবের মূল কারণ হচ্ছে দক্ষিণা বাতাস, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা, দিন এবং রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়া হঠাৎ বৃষ্টি হওয়া। যাকে স্টিম ফগ বা বাস্পীয় কুয়াশা বলে আখ্যা দেওয়া হয়।
এক প্রতিক্রিয়ায় পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট মো. হাফিজুর রহমান বলেন, মার্চের শুরুর দিকে পঞ্চগড়ে দিনের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছিল। শীতের প্রভাব প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল; কিন্তু হঠাৎ করে গত কয়েক দিন ধরে পঞ্চগড়ে ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় আকাশ ঢাকা থাকছে। মনে হচ্ছে নতুন করে আবার শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা এলাকা থেকে ভোরে অটো নিয়ে এসেছেন চালক ইদ্রিস আলী। তিনি বলেন, গত কয়েক দিন ধরেই ভোরে শীত অনুভূত হচ্ছে। তাই জ্যাকেট পরে অটো চালাচ্ছি।
ইসলামবাগ এলাকার বাসিন্দা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ সামান্তা সৃষ্টি বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে বেড়াতে এসে বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম। বৃহস্পতিবার ভোরে ঘুম থেকে উঠেই দেখি চারিদিক ঘন কুয়াশায় ঢাকা। ছাদের ফুলের টবের গাছে জমে আছে শিশির বিন্দু। মনে হচ্ছে শীত যেন দরজায় কড়া নাড়ছে।
