Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

তালতলীতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পে পঁচা ডিম ও রুটি দেওয়ার অভিযোগ

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, আমতলী (বরগুনা)

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

তালতলীতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পে পঁচা ডিম ও রুটি দেওয়ার অভিযোগ

সিদ্ধ করার সময় পঁচা ডিম ধরা না পরলেও বাচ্চারা যখন খেতে শুরু করে তখন দুর্গন্ধ বেড়িয়ে আসে। তখন এগুলো খাওয়ার উপযোগী থাকে না। ছবি: যুগান্তর

তালতলী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের শিশু শিক্ষার্থীদের পঁচা ডিম ও রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার বিরুদ্ধে। এতে শিশু শিক্ষার্থীর মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া এবং শিক্ষায় অগ্রগতি মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। 

জানা গেছে, উপকূলীয় অঞ্চলের শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় মনোনিবেশ এবং পুষ্টি চাহিদা পূরণে সরকার স্কুল ফিডিং প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে। তালতলী উপজেলার ৭৯টি বিদ্যালয়ের ৭হাজার ২৭০টি শিশুকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। বিদ্যালয় চলাকালীন প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দৈনিক একটি ডিম, রুটি, কলা, বিস্কুট দুধ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ডিম, কলা ও রুটি ক্রয়ের দায়িত্ব পান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা। 

গত ২৯ মার্চ ওই সংস্থা ডিম, রুটি ও কলা সরবরাহ শুরু করেন। কিন্তু শুরুতেই কাঁচা কলা, পঁচা ডিম ও রুটি সরবরাহের অভিযোগ ওঠে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে। 

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুই দিনের রুটি একসঙ্গে বিদ্যালয়ে দিয়ে যান।  মেয়াদ থাকলেও ওই রুটি পঁচা। এছাড়া কাটা ডিম সরবরাহ করলেও ওই ডিমের মধ্য থেকে অধিকাংশ ডিম পঁচা। সিদ্ধ করার সময় পঁচা ডিম ধরা না পরলেও বাচ্চারা যখন খেতে শুরু করে তখন দুর্গন্ধ বেড়িয়ে আসে। তখন এগুলো খাওয়ার উপযোগী থাকে না।

সরদারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসিন ও মারিয়া জানান, ডিম ও রুটি পঁচা। খাওয়ার উপযোগী না, তাই ফেলে দিয়েছি। তারা আরও জানান, আমরা তো ডিম, রুটি ও কলা সরকারের কাছে খেতে চাইনি। যখন দিয়েছে তা পঁচা হবে কেনো?

ছাতনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, পঁচা ডিম ও রুটি না খেয়ে ফেলে দিয়েছি।

গাবতলী রফিক মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, সরবরাহকৃত ডিমের মধ্যে বেশ কিছু পঁচা ডিম বের হয়েছে। দুইদিন আগে রুটি দিয়ে গেলে ওই রুটি ভালো থাকে না। রুটির ওপর ফাঙ্গাশ পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তখন আর খাওয়ার উপযোগী থাকে না।

বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহকারী মো. ইউনুস মিয়া বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা আমাকে যে পন্য সরবরাহ করেছে আমি তা বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিয়েছি। তবে ডিম ও রুটি পঁচার বিষয়টি আমাকেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্প পরিচালক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ডিম তো কেউ নিজে থেকে পেড়ে দেয়না। শুনেছি কিছু পঁচা ডিম বের হয়েছে। তবে পরবর্তী সপ্তাহ থেকে মান যাছাই করে ভালো পন্য দেওয়া হবে।

তালতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল বাশার বলেন, অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কাঁচা কলা,পচা ডিম ও রুটির বিষয়ে আমাকে অবহিত করেছেন। আমি সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছি কোন মতেই পঁচা ডিম ও রুটি শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।  

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে করণীয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে আগামী সোমবার সভা ডাকা হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .