Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

অর্থ সংকটে হারিয়েছেন সব

ভালোবেসে বিয়ে করা স্ত্রীও ছেড়ে গেছে সুজনকে

Icon

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম

ভালোবেসে বিয়ে করা স্ত্রীও ছেড়ে গেছে সুজনকে

সুজন মজুমদার

অর্থ সংকটে সুখের খোঁজে ভালোবেসে বিয়ে করা স্ত্রীও চাঁদপুরের পুরানবাজারের সুজন মজুমদারকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। সঙ্গে নিয়ে গেছে সাজানো সংসারের সব আসবাবপত্র ও একমাত্র পুত্র সন্তানকেও।

কিন্তু এই স্ত্রীই একদিন বলেছিল- ‘জীবনে যাই হয়ে যাক না কেন-কখনো তোমার হাত ছেড়ে চলে যাব না’।

সোমবার (৬ এপ্রিল) কাঁদতে কাঁদতে এমন কথাই জানাচ্ছিলেন সুজন মজুমদার। 

সরেজমিন দেখা যায়, চাঁদপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পুরানবাজার নিতাইগঞ্জের এক সময়ের বাসিন্দা বর্তমানে রয়েজরোড সরদার মার্কেটের বিপরীতে একটি ছোট্ট এক কক্ষের টিনশেড দোকানে চিপস, চকলেট, কেক-বিস্কুট, চা বিক্রি করছেন সুজন। দোকানের মধ্যেই কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে একটি বিছানাও সাজানো রয়েছে। সেখানেই তিনি একা থাকেন।

সুজন মজুমদার (৪৬) স্থানীয় মৃত সুখ রঞ্জন মজুমদার ও রেবা মজুমদারের ৪ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে ছোট সন্তান। এই ৪ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে ২ ভাই আগেই মারা গেছেন। বাকি যারা আছেন তারাও তাদের মতো চলছেন। বৃদ্ধা মা কখনো ভাই বা বোনের বাসায় থাকেন।

সুজন বলেন, প্রায় ৩০ বছর পূর্বে বাবা মারা যাওয়ার পর নানান কাজে জড়িত হয়ে আমার আয় রোজগার ভালোই চলছিল। যুবক বয়সে বলাখাল রামপুরের মেয়ে মুক্তা রানী সাহাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। তখন সে আশ্বস্ত করেছিল- আমাকে যেকোনো পরিস্থিতিতেও ছেড়ে যাবে না। সেখানে আমার একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। আমি ডিশের লাইনের ব্যবসা করতাম। ২০২০ সালের দিকে ডিশের লাইনের কাজ করতে গিয়ে ২ তলা থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে যাই। আর এতেই জীবন হতে সব এলোমেলো হয়ে গেল।

সুজন বলেন, আমি দোতলা হতে পড়ে গিয়ে পা ও মাজা অনেকটা অবশ হয়ে যায়। তখন আমার স্ত্রীর সেবা শুশ্রূষায় সর্বোচ্চটা নিয়ে পাশে থাকার কথা; কিন্তু তা না করে সে উল্টো অন্য পুরুষের হাত ধরে চলে যায়। যাওয়ার সময় আমার অসুস্থ মাকেও একা রেখে সে আমার সন্তান তীর্থ মজুমদারকেও নিয়ে যায়। এমনকি ঘরে থাকা সব মালামালও নিয়ে যায়।

২০২৪ পর্যন্ত আমি অসুস্থ ছিলাম। নানান মানুষের সহায়তায় আমি থেরাপি দিয়ে এখন উঠে বসতে পারি এবং লাঠি ভর দিয়ে ধীরে ধীরে চলতে পারি। এখন মাঝে মাঝে পাশেই থাকা এক ভাইয়ের বাসায় দুপুরে এক বেলা খাওয়া-দাওয়া করি। কতিপয় মানুষ আমাকে এই দোকানটা চালাতে কিছু চিপস, চকলেটসহ উপকরণ কিনে দেয়। এখন দোকানে থেকে খেয়ে সময় কাটাচ্ছি ও জীবনযাপন করছি।

সুজন আরও বলেন, আমার এই দোকান ভাড়া ১ হাজার ৮শ টাকা। এই চিপস ও চকলেট তেমন একটা বিক্রি হয় না। এগুলোর টাকা দিয়ে সারা মাসের আয়ে দোকান ভাড়া দিয়ে তেমন কিছুই থাকে না। চরম আর্থিক দুর্বিপাকে সময় কাটাচ্ছি। ইচ্ছা আছে, সমাজের দানবীর বা প্রশাসনিক সাহায্য সহায়তা পেলে দোকানটাতে একটা ফ্রিজ ও বিকাশের ব্যবসাসহ অন্যান্য মুদি মালামাল উঠাব। এরপর সব জেনেশুনে যদি কোনো নারী আমাকে বিয়ে করে তবে তাকে বিয়ে করে আমার জীবনের বাকি পথটুকু চলব।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .