জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন
বগুড়ায় ভোট শেষ হওয়ার আগেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই ফলাফল শিটে প্রার্থীর এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের পর ওই রেজাল্ট শিট ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১০টার দিকে মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নুরুল ইসলাম ভোট গ্রহণের শুরুতেই এজেন্টদের কাছে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নিতে শুরু করেন। বিষয়টি প্রচার হলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ জানান।
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসওয়ার তানজামুল হক কেন্দ্রে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতিতেই বিতর্কিত ওই স্বাক্ষরিত রেজাল্ট শিট ছিঁড়ে ফেলা হয়। এরপর নতুন রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হয়।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বগুড়া শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেল রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করেন, শুধু মালতিনগর নয়, সিটি স্কুল কেন্দ্রেও একইভাবে পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসাররা আগেভাগে ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর করে রেখেছেন।
তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম বিশেষ একটি দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছেন এবং তাদের সুবিধা দিচ্ছেন। পুলিশ, জেলা প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলেও রিটার্নিং অফিসার প্রশ্নবিদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মেনে নেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে এসব অনিয়মের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে তার কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিছু কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি শেষপর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
