Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

কোটি টাকার সম্পদ লিখে নিয়ে

বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির ওপর নির্যাতন, পুত্রবধূ প্রধান শিক্ষিকা বরখাস্ত

Icon

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির ওপর নির্যাতন, পুত্রবধূ প্রধান শিক্ষিকা বরখাস্ত

ফাইল ছবি।

গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে জমিসহ সব সম্পদ লিখে দিয়েও পুত্র ও স্কুলশিক্ষিকা পুত্রবধূর নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাননি বৃদ্ধ শ্বশুর-শ্বাশুড়ি।  

শুধু অযত্ন-অবহেলা নয়, কনকনে ঠান্ডায় বৃদ্ধ শ্বশুর-শ্বাশুড়ির লেপ-তোশকে পানি ঢেলে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনাও ঘটেছে। বাধ্য হয়ে আশপাশের লোকজন নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে আশ্রয় জুটেছে ওই বৃদ্ধ দম্পতির।   

এমন অমানবিক অভিযোগ প্রমাাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা পুত্রবধূ মাহবুবা খানম সোমাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।  

গত ৫ এপ্রিল রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত জারি করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

গত ৮ জানুযারি পলাশবাড়ি থানায় দায়ের করা মামলার বিবরণে বলা হয়, উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঝালিঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সি মাহবুব ইসলাম দোলন ও তার স্ত্রী ৭০ বছর বয়সি হাসনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ছেলেদের নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু মাহবুবুর রহমান দোলন শারীরিকভাবে অসুস্থ হলে শুরু হয় তার পুত্র হাসানুর রহমান ও পুত্রবধূ শিক্ষিকা সোমার নির্যাতন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পৈতৃক সম্পতির ৬ বিঘা আবাদি জমি, ৩ বিঘার ৩টি পুকুর ও বসতবাড়ির ১৮ শতকসহ কোটি টাকার সম্পদ পুত্রবধূ সোমা ও ছেলে হাসানুরের নামে লিখে দেন ওই বৃদ্ধ শ্বশুর।   

সম্পত্তি নিজেদের নামে জমি লিখে নেওয়ার পর থেকেই তাদের ওপর অবহেলা, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এমনকি একাধিকবার ঘর থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারি অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য বাইরে গেলে, তারা যেন আর ঘরে থাকতে না পারে সেজন্য তাদের ব্যবহৃত লেপ-তোশক, কাঁথা-বালিশসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঘর থেকে বের করে পানিতে ভিজিয়ে রাখেন। ওই দিন এই অমানবিক ঘটনার পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক বসে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও ছেলে হাসানুর রহমান ও তার স্ত্রী সোমা শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে বেধড়ক মারপিট করে । একপর্যায়ে পুত্রবধূ সোমা তার শ্বশুরকে হত্যাচেষ্টা করে। এ সময় তার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ ও পলাশবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধ দম্পতির থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন। 

এ ঘটনায় পিতা মাহবুব ইসলাম দোলন বাদী হয়ে পলাশবাড়ি থানায় মামলা দাযের করেন। 

পুলিশ অভিযুক্ত ছেলে হাসানুর রহমানকে গ্রেফতার করে এবং অভিযুক্ত পুত্রবধূ সোমার বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। 

দীর্ঘদিন তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে পলাশবাড়ি উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের সাতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পুত্রবধূ উম্মে মাহবুবা খানম সোমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ অনুযায়ী তাকে গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬  থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।   

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, পলাশবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ গঠিত হওয়ায় এবং মামলাটি বিচারাধীন থাকায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সোমা সরকারি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। 

এ ব্যাপারে পলাশবাড়ি থানার ওসি সরোয়ারে আলম বলেন, বৃদ্ধ পিতা-মাতার সম্পতি লিখে নিয়ে তাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। তবে শিক্ষা বিভাগ থেকে অভিযুক্ত পুত্রবধূকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .