Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন

জামায়াতের ভোট কমেছে

বিডিপি প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

Icon

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

জামায়াতের ভোট কমেছে

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ফুলকপি মার্কার প্রার্থী আল আমিন তালুকদার কাঙ্ক্ষিত ভোট না পাওয়ায় জামানত খুইয়েছেন। একটি পোস্টাল ব্যালটসহ ১৫১টি কেন্দ্রের ৮৩৫ কক্ষে একজন করে পোলিং এজেন্ট রাখলেও ভোট পেয়েছেন মাত্র ৪৯৯টি।

এদিকে মাত্র ৫৬ দিনের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থীর ভোট কমেছে, ৪০ হাজার। এ নিয়ে আসনের ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা মার্কার আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট। অপর প্রার্থী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) ফুলকপি মার্কার আল আমিন তালুকদার মাত্র ৪৯৯ ভোট পেয়েছেন।

ভোট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় বগুড়ার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।

মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ ভোট। ১৫০টি কেন্দ্র ও একটি পোস্টাল ব্যালট কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৯৯ ভোট। ভোট বাতিল হয়েছে, এক হাজার ৭১০ ভোট। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা এক লাখ ৯১ হাজার ৫৮৯ ভোট। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৪২.৫৭%। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোট পড়েছিল, ৭১.০৩ শতাংশ।

বিডিপির প্রার্থী আল আমিন তালুকদার মোট সংগৃহীত ভোটের এক-অষ্টমাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্রাপ্ত হয়েছে। তিনি ১৫১ কেন্দ্রের ৮৩৫টি বুথে সমসংখ্যক পোলিং এজেন্ট রেখেছিলেন।

এরপরও মাত্র ৪৯৯ ভোট পাওয়ায় জনগণের মাঝে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। টাকা খরচ করে কেন্দ্রের বুথে নিয়োজিত করা ৩৩৬ জন এজেন্ট তাকে ভোট দেননি।

তবে সাধারণ ভোটাররা বলেছেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর ডামি প্রার্থী ছিলেন। তাই তিনি প্রার্থী হলেও প্রচারণায় অংশ নেননি। ভোটাররা তাকে চেনার সুযোগ পাননি। আর বুথগুলোতে জামায়াত ও বিডিপির এজেন্ট ছিল অভিন্ন।

এ প্রসঙ্গে প্রার্থী আল আমিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জামায়াতের ৪০ হাজারের বেশি ভোট কমেছে:

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল চার লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল তিন লাখ ২২ হাজার ৪৮৫ ভোট। তখন বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল তিন লাখ ১৭ হাজার ৪৮৯ ভোট। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ছিল ৭১.০৩%।

পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পেয়েছিলেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। আর তার তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। অপর তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট। অর্থাৎ ৫৬ দিনের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর ভোট কমেছে ৪০ হাজার ৪৬৭ ভোট। সাধারণ ভোটাররা ৫৬ দিনের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থীর ভোট কম হওয়া নিয়ে অনেক কথা বলেছেন।

কেউ কেউ বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অসংখ্য মামলা, হামলা ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আওয়ামী লীগের ভোটাররা বিএনপির ওপর বিরক্ত। তাই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অসংখ্য ভোটার মন্দের ভালো হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। আবার সংসদে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ বিল পাশ হওয়ায় নেতাকর্মীদের অনেকে উপনির্বাচনের দিন কেন্দ্রে যাননি। ফলে ভোট কম পড়েছে। এতে জামায়াতে ইসলামীর ভোট কমে গেছে। ভোট কমে যাওয়া প্রসঙ্গে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম