Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেও জামিন পেলেন সেই দিপু হত্যার আসামি

Advertisement

Icon

ময়মনসিংহ ব্যুরো

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১১ পিএম

জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেও জামিন পেলেন সেই দিপু হত্যার আসামি

ফাইল ছবি

Advertisement

ময়মনসিংহের ভালুকায় চাঞ্চল্যকর দিপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. মাসুম উচ্চ আদালত থেকে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জামিননামা বের হয়। ৬ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ জামিন আদেশ প্রদান করেন। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার আসামি দ্রুত জামিন পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ এবং বিচারপতি সৈয়দ হাসান জোবায়ের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় আবেদনের প্রেক্ষিতে মাসুমকে এক বছরের জন্য জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, মাসুম খালাসী মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বাহাদুরপুর গ্রামের মো. চাঁন মিয়া খালাসীর ছেলে।

হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে ১৩ এপ্রিল ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দুই হাজার টাকার মুচলেকায় জামিননামা গ্রহণ করে তার মুক্তির (ছাড়পত্র) আদেশ দেন। জামিননামায় স্থানীয় জামিনদার হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন আসামির বাবা। 

এর আগে, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ভালুকা মডেল থানায় দায়েরকৃত দিপু দাস হত্যা মামলায় প্রেক্ষিতে তিনি কারাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৭/১৪৯/৩০২/২০১/২৯৭/৩৪ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। এসব ধারার মধ্যে হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের মতো অপরাধের ধারা অন্তর্ভুক্ত।

বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডটি তদন্ত করছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাসুমসহ মোট ২৬ আসামিকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মাসুম নিজেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া একজন আসামি এত দ্রুত জামিন পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, ‘পুলিশের মাসের পর মাস অভিযানের পর আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন যদি অতি সহজে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে আসামিরা বেরিয়ে যায়, তবে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হবে এবং অন্যান্য আসামিরাও একই রেফারেন্স ব্যবহার করে জামিন পাওয়ার সুযোগ খুঁজবে।’

নিহত দিপু দাসের ভাই অপু রবি দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মামলার গুরুত্বপূর্ণ এ আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে খুনের কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু মাত্র কয়েকদিন যেতে না যেতেই যদি খুনিরা এভাবে জামিন পেয়ে বীরদর্পে বের হয়ে আসে, তবে আমরা সাধারণ মানুষ কার কাছে বিচার চাইব? আমরা এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ফ্যাক্টরির কর্মচারীদের উসকানি দিয়ে দিপুকে পদত্যাগের চাপ সৃষ্টি এবং পরবর্তী বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম