বান্দরবান পৌর প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে লিগ্যাল নোটিশ
বান্দরবান (দক্ষিণ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বান্দরবান পৌরসভার পৌর প্রশাসক এসএম মনজুরুল হক ও বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিমকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী আবিরুল ইসলাম আদনান। তিনি বর্তমানে বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইন চর্চা করেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এই লিগ্যাল নোটিশটি প্রেরণ করেন এই আইনজীবী।
নোটিশে উল্লেখ করেন, লিগ্যাল নোটিশদাতা বান্দরবান পৌরসভার আওতাধীন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যমপাড়ার একজন স্থায়ী বাসিন্দা এবং নিয়মিত বান্দরবান পৌরসভাকে কর পরিশোধ করে আসছেন।
লিগ্যাল নোটিশ সূত্রে জানা যায়, মধ্যমপাড়াসহ বান্দরবান পৌর এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সাঙ্গু নদী, যা বান্দরবান জেলার পরিবেশ ও প্রকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বান্দরবান পৌরসভা কর্তৃক সংগৃহীত সব ময়লা আবর্জনা/বর্জ্য/প্লাস্টিক জাতীয় ময়লা দিনশেষে অপসারণ করে ডাম্পিং স্টেশনে ফেলা হয়, যা বান্দরবান রোয়াংছড়ি সড়কের পার্শ্ববর্তী লেমুঝিরি এলাকায় অবস্থিত; কিন্তু ডাম্পিং স্টেশনের বিপরীত পাশে লাগোয়া সাঙ্গু নদী এবং এই নদীর পার্শ্ববর্তী ৫ নং ওয়ার্ডের মধ্যমপাড়া এলাকাটি অবস্থিত যেখানে প্রায় ৫ হাজার মানুষ বসবাস করেন।
ডাম্পিং স্টেশনে আবর্জনাগুলো সংগ্রহ পরবর্তী স্টকের পর পৌরসভা কর্মচারীরা নির্দিষ্ট সময় পরপর উক্ত ডাম্পিং স্টেশনে আগুন লাগিয়ে ময়লা আবর্জনাগুলো বিনষ্টের চেষ্টা করেন। যার ফলে আগুন লাগানোর পরবর্তী সময়ে ডাম্পিং স্টেশনের পার্শ্ববর্তী এলাকা মধ্যমপাড়ায় কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। যাতে তীব্র প্লাস্টিকের এবং কেমিক্যাল জাতীয় দ্রব্যের দুর্গন্ধ এলাকার মানুষের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি ও এলাকার মানুষের মৌখিক অভিযোগের পরেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা নেননি।
ফলে ডাম্পিং স্টেশনে ময়লা বিনষ্টের বিষয়ে চরম অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া বর্ষায় ডাম্পিং স্টেশনের ময়লাগুলো সাঙ্গু নদীতে গিয়ে পড়ে, যার ফলে সাঙ্গু নদী মানুষের ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠছে, নদী ও পরিবেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
লিগ্যাল নোটিশে আরও উল্লেখ করেন, নোটিশ দাতার পরিবারেও বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে ২ বছরের ছোট শিশু আছে। পৌরসভার এ অব্যবস্থাপনার কারণে বয়স্ক ও শিশু সন্তানদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক লোকদেরও এ কেমিক্যাল ও প্লাস্টিকযুক্ত কালো ধোঁয়া নি:শ্বাসের সঙ্গে নেওয়ার সক্ষমতা নেই।
এছাড়াও যেসব রোগীর শ্বাসকষ্টজনিত রোগ রয়েছে তাদের জন্য এ কালো ধোঁয়া মরণব্যাধিতে রূপান্তর হচ্ছে। পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশনের এ অব্যবস্থাপনার কারণে লিগ্যাল নোটিশ দাতার পরিবারসহ মধ্যমপাড়ার প্রায় ৫ হাজার সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তাছাড়াও বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরকে ২নং লিগ্যাল নোটিশ গ্রহীতা হিসেবে উল্লেখ করে পরিবেশ ও সাঙ্গু নদীকে বাঁচাতে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
লিগ্যাল নোটিশে আরও বলা হয়, নোটিশ গ্রহীতারা নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। অন্যথায় দায়িত্বে অবহেলা ও জনস্বার্থে আঘাতের এবং পরিবেশের ক্ষতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেন।
এ ব্যাপারে বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এসএম মনজুরুল হক বলেন, লিগ্যাল নোটিশ এখনো পাইনি। এখনো কিছুই জানি না। হাতে এলে বিস্তারিত জানতে পারব।
এ ব্যাপারে জানতে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিমের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
