Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

যশোরে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

Icon

যশোর ব্যুরো

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫১ পিএম

যশোরে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

যশোরে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

মাসখানেকের তীব্র দাবদাহে পুড়তে থাকা যশোরে হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ এক কৃষক নিহত হয়েছেন।

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলা এই ঝড়ে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

হাসপাতাল ও পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে যশোরের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মনিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে বাড়ি থেকে মাঠে যাচ্ছিলেন লুৎফর রহমান সরদার। এ সময় বজ্রপাত আঘাত আনলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে। ওই এলাকাসহ ঝাঁপা, হরিহরনগর, রাজগঞ্জ এলাকায় বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

অন্যদিকে কেশবপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। ঝড়ে আহত হয়ে ৯ জন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে ২ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।

কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলার মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি। তার প্রতিষ্ঠানের ছাদের ওপর গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নাই।

কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ঝড়-বৃষ্টিতে যশোরে তেমন ক্ষতি হয়নি। কিছু কিছু জায়গায় বোরো ধান হেলে পড়েছে; সেগুলোতে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা দেখছি না। যশোরে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টি ধানের জন্য আশীর্বাদ। তার পরেও কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে মনিরামপুর ও কেশবপুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। অসংখ্য জায়গায় তারের উপর গাছ পড়ে আছে। আমাদের কর্মীরা রাতেও কাজ করছে। তবে সব জায়গায় বিদ্যুৎ লাইন সচল করা সম্ভব হবে না।

জেলা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বজ্রপাতে মনিরামপুরে একজন মারা যাওয়ার খবর আছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; সেটা নিরূপণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .