বসতবাড়ি বিক্রি করেও ভারত যাওয়া হলো না রথিকান্তের
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
রথিকান্ত জয়ধর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতে থাকা স্ত্রী-সন্তানদের কাছে যেতে জমিজমা বসতবাড়ি বিক্রি করেছিলেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রথিকান্ত জয়ধর (৪৬)। তবে ভারত যাওয়া হয়নি তার। ঝিনাইদাহের মহেশপুর সীমান্ত থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মহেশপুর থানা পুলিশ পুলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে রথিকান্ত জয়ধরের লাশ উদ্ধার করে। পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে।
রথিকান্ত জয়ধর কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপর ইউনিয়নের পলোটানা গ্রামের দেবন্দ্রনাথ জয়ধারের ছেলে। তিনি ৪ সন্তানের জনক।
জানা গেছে, ৮ বছর আগে রথিকান্ত জয়ধরের স্ত্রী উজ্জলী জয়ধর (৪০) স্বামীর সম্মতিতে তার ৪ সন্তান— রতন জয়ধর (২২), নয়ন জয়ধর (১৫), রত্না জয়ধর (১৮) ও রিয়া জয়ধরকে (১২) নিয়ে ভারতের কলকাতায় চলে যান। এর মাঝে রথিকান্ত কয়েকবার কলকাতায় বেড়াতে গিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জমিজমা বসতবাড়ি বিক্রি করে টাকা নিয়ে রথিকান্ত জয়ধর কলকাতার উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা দেন। বৃহস্পতিবার রাতে মহেশপুর থানা থেকে রথিকান্ত জয়ধরের মৃত্যুর খবর তার ছোট ভাই রণজিৎ জয়ধরকে জানানো হয়। খবর পেয়ে রণজিৎ জয়ধর রাতেই মহেশপুরে গিয়ে তার ভাই রথিকান্ত জয়ধরের লাশ শনাক্ত করেন।
রণজিৎ জয়ধর বলেন, মঙ্গলবার সকালে কলকাতায় যাওয়ার কথা বলে আমার ভাই বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তবে সে কার সঙ্গে কোন পথে কলকাতায় যাবে সেটি আমাদের জানায়নি। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের মাধ্যমে রথিকান্তের মৃত্যুর খবর জানতে পাই।
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে রথিকান্ত জয়ধরের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ঝিনাইদাহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আমরা লাশের সঙ্গে একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়ে রথিকান্তের ঠিকানা শনাক্ত করি।
তিনি আরও বলেন, রথিকান্ত জয়ধরের বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে কারা গুলি করেছে সেটি এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ বিষয়ে অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে।
মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খান চমন-ই-এলাহী বলেন, জমিজমা বিক্রি করে অনেকেই দালালের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার পথে প্রতারিত হয়। অনেকের আবার জীবন চলে যায়। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিত।
রথিকান্ত জয়ধর কার মাধ্যমে কলকাতা যেতে চেয়েছিল বা তার প্রকৃত হত্যার রহস্য উন্মোচনের জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
