Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

এসির পাইপ চুরির হিড়িক

Advertisement

Icon

তৌহিদ জামান, যশোর

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

এসির পাইপ চুরির হিড়িক

Advertisement

যশোরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) তামার তার বা পাইপ চুরির হিড়িক পড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই শহর বা শহরতলীর কোনো না কোনো বাড়ি থেকে চুরি হয়ে যাচ্ছে এই মূল্যবান দ্রব্য। এতে ব্যাপকহারে ক্ষতির মুখে পড়ছেন সংশ্লিষ্টরা।

শহরের পুরাতন কসবা ঘোষপাড়া এলাকার গৃহবধূ শামীমা জামান বলেন, গভীর রাতে দোতলা বাড়ির ছাদে থাকা এসির তামার পাইপ কেটে নিয়ে যায় কে বা কারা। গরমে ঘুম ভেঙে দেখি, ইলেক্ট্রিসিটি আছে কিন্তু এসি চলছে না। সকালে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি এসির তার চুরি হয়েছে। শুধু আমার বাসায় নয়, প্রতিবেশী আরও ৪-৫টি বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটেছে।

কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মহসীন আলীও একই কথা বলেন। তার ভাড়া বাসা থেকে কে বা কারা এসির পাইপ চুরি করে নিয়ে যায়।

উপশহর এফ-ব্লক এলাকার বাসিন্দা আকরামুজ্জামান জানান, গেল ঈদের ছুটিতে তারা গ্রামের বাড়িতে যান। ফিরে এসে জানতে পারেন তার চারতলার ভাড়া বাসা থেকে চোরেরা এসির পাইপ কেটে নিয়ে গেছে। এছাড়া সামনের বাসার ফ্ল্যাট থেকে অনুরূপ পাঁচটি এসির তার চুরি গেছে।

সম্প্রতি পুরাতন কসবা এলাকার বাসিন্দা সাবেক ব্যাংকার মনিরুজ্জামানের বাসার এসির পাইপ চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

আব্দুল হাকিম জানান, তার ফ্ল্যাটের পাঁচটি এসির পাইপ খুলে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি এসি ফের সচল করতে তাকে ১০-১২ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত রফিকুল ইসলাম বলেন, চোরেরা একটি এসি থেকে তামার পাইপ খুলে নিয়ে ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করে পায় ৫শ থেকে ৬শ টাকা। কিন্তু আমাদের গুনতে হয়েছে ১০-১২ হাজার টাকা।

ভুক্তভোগীরা জানান, তিন হাজার টাকার তামার পাইপ, ২ হাজার ৭শ টাকার গ্যাস, দেড় হাজার টাকা আনুষঙ্গিক খরচ ও দুই হাজার টাকা মিস্ত্রি খরচসহ প্রায় ১০-১২ হাজার টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়।

এসি মেরামত কাজে সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বছর তামার পাইপ চুরির ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এক বাসায় মেরামত কাজ সম্পন্ন করার পরপরই আবার চুরির ঘটনাও ঘটেছে।

তবে কারা এ চুরির সঙ্গে জড়িত- তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ মাদকাসক্তদের দায়ী করলেও অধিকাংশ ভুক্তভোগীর দাবি, এর পেছনে বড় ধরনের সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে, যার সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জড়িত।

গত ছয় মাসে যশোর শহর ও শহরতলীর দুই শতাধিক বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান এ চক্রের শিকার হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

যশোর শহরের পালবাড়ি মোড় থেকে ঘোষপাড়া হয়ে কাঁঠালতলা, শেখহাটি মিয়ার বাড়ি, জেস টাওয়ার মার্কেট, গণপূর্ত বিভাগের বাংলো, বারান্দিপাড়া ফুলতলা, নলডাঙ্গা রোডের একাধিক বাড়ি থেকে, খাজা সিটি লোন অফিসপাড়া, মডার্ন আই কেয়ার ভবন, হুশতলা গ্রামীণ ফ্ল্যাট, মিশনপাড়া, জেল রোড, পোস্ট অফিসপাড়া, আরএন রোডে প্রিমিয়ার ব্যাংক ভবন, গাজী হাসপাতালসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এক বা ততোধিক এসির পাইপ চুরি হয়েছে।

যশোর পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান তুহিন বলেন, পৌরসভা ভবন থেকেও তিনটি এসির পাইপ চুরি হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুরি করা তামার পাইপ যশোর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি ভাঙারি দোকানে গোপনে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করছে। চোরদের কাছ থেকে চোরাই তামার পাইপ অতি কম দামে কিনে নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুদ খান বলেন, এসির তামার পাইপ চুরির ঘটনার বিষয়ে প্রায়ই অভিযোগ আসে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্তে ১০টি মামলা রেকর্ড হয়েছে এবং চোরচক্রের ১৫ সদস্যকে বিভিন্ন সময়ে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু এসি চুরি নয়, যেকোনো অপরাধ দমনে যশোর পুলিশ সব সময় সচেতন রয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম