Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

নবজাতকের পিতৃত্ব অস্বীকার, ঘুরছেন ভুক্তভোগী নারী

Icon

কমলনগর-রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

নবজাতকের পিতৃত্ব অস্বীকার, ঘুরছেন ভুক্তভোগী নারী

ফাইল ছবি

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত তিনবছর ধরে শারীরিক সম্পর্কের পর এক নবজাতকের জন্ম দেন এক নারী। তবে নবজাতক ওই সন্তানের জন্মের পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পর প্রতিবেশী নুরুল আলম তাকে বিয়ের আশা দিয়ে দিনের পর দিন শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। এরইমধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি। পরে বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে আজ নয় কাল বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন নুরুল আলম। গতপাঁচ দিন আগে একটি সন্তান জন্ম দেন ওই নারী। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কোডেক কলোনির সাত্তার মিয়ার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পিতৃপরিচয়হীন নবজাতককে নিয়ে বর্তমানে চরম সামাজিক অনিশ্চয়তা ও দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটছে ভুক্তভোগী নারীর।

ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় তিন বছর আগে স্বামী ফরিদ হোসেনের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর প্রতিবেশী আব্দুল বারেকের ছেলে নুরুল আলমের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নুরুল আলম তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি গর্ভবতী হওয়ার পর বিষয়টি নুরুল আলমকে জানালে সে আমাকে গর্ভপাতের ওষুধ এনে দেয়। কিন্তু আমি সন্তান নষ্ট করিনি। বর্তমানে আমার নবজাতক সন্তানের বয়স পাঁচ দিন। এখন নুরুল আলম সবকিছু অস্বীকার করছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় বাসিন্দা দিনারা বেগমের বিরুদ্ধে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

সচেতন মহলের দাবি, একটি নিষ্পাপ শিশুর সামাজিক ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নবজাতকের পিতার সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে তার প্রাপ্য অধিকার ও ন্যায়বিচার দিতে হবে।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নবজাতকের জন্ম দেওয়া নারীর আগের সংসারের তিন সন্তান এবং অভিযুক্ত নুরুল আলমে চার সন্তান রয়েছে। তাদের মতে নবজাতকের পিতৃ পরিচয় নিশ্চিতে দুজনের বিয়ে পড়ানোর পর তাদের গ্রাম থেকে চলে যেতে বলা হবে। স্থানীয়রা তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত আছি। নুরুল আলমের সঙ্গে কথা বলে নবজাতকের পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। অভিযুক্ত নুরুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .