যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর পিতৃপরিচয় পেল সেই নবজাতক
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে পিতৃপরিচয় পেয়েছে এক নবজাতক। বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের পর জন্ম নেওয়া শিশুটির পিতৃত্ব অস্বীকারের ঘটনায় যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল, তার অবসান ঘটল। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে অভিযুক্ত নুরুল আলম দেড় লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে ভুক্তভোগী ওই নারীকে বিয়ে করেন এবং নবজাতককে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
এর আগে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের কোডেক কলোনি এলাকায় প্রতিবেশী নুরুল আলমের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে ওই নারী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নুরুল আলম দীর্ঘ তিন বছর ধরে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। তবে সন্তান জন্মের পর তিনি গা-ঢাকা দেন এবং প্রভাবশালী একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের নজরে আসে।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত নুরুল আলম নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে দেনমোহর নির্ধারণ করে কাজী ডেকে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। এর মাধ্যমে জন্মের ছয় দিন পর নবজাতক তার আইনি ও সামাজিক পিতৃপরিচয় লাভ করে।
বিয়ের পর ভুক্তভোগী নারী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, যুগান্তরে খবর প্রকাশের কারণেই আজ আমার সন্তান তার বাবার পরিচয় পেয়েছে। প্রভাবশালীরা ঘটনাটি আড়াল করতে চেয়েছিল, কিন্তু গণমাধ্যমের কারণে তা সম্ভব হয়নি। আমি যুগান্তর কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন বলেন, আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছিলাম। বিয়ের মাধ্যমে শিশুটির সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয়েছে।
রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান জানান, ঘটনাটি তিনি লোকমুখে শুনেছেন, তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সামাজিকভাবে বিষয়টির সমাধান হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
