Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

‘আমার সব শেষ হয়ে গেল, এখন সারা বছর কীভাবে চলব’

Icon

‎জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

‘আমার সব শেষ হয়ে গেল, এখন সারা বছর কীভাবে চলব’

টানা ভারি বর্ষণে জামালগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। ছবি: যুগান্তর

‎গত কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা, এতে চরম কৃষি বিপর্যয়ে পড়েছে কৃষকরা। কৃষকের ঘরে ধান ওঠার আগেই হাওড়ে থাকা পাকা বোরো ধান তলিয়ে যাচ্ছে পানির নিচে। 

‎ঠান্ডা ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত আতঙ্ক, ভারি বৃষ্টি  থাকা সত্ত্বেও হাওড়ের দিকেই দৌড়াচ্ছেন কৃষকরা। হাঁটু থেকে বুক সমান পানিতে নেমে কেটে আনার চেষ্টা করছেন পরিবারের সারা বছরের খাদ্য জোগানোর ধান। 

‎জামালগঞ্জের হালির হাওড়, পাগনা, শনি, মহালিয়াসহ ছোট-বড় হাওড়গুলোর বিস্তীর্ণ জমি ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে। কোথাও ধান পুরোপুরি তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও ডুবু ডুবু অবস্থায় রয়েছে। এক ফসলি এলাকা হওয়ায় জীবন-জীবিকার শেষ ভরসা রক্ষায় কৃষকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কোমর সমান পানিতে নেমে, কেউ নৌকায় করে জমিতে গিয়ে ধান কাটছেন। অনেকে আবার স্ত্রী-সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই মাঠে নেমেছেন।

‎হালির হাওড়ের কৃষক খালেক মিয়া বলেন, ১৬ কেদার জমির মধ্যে মাত্র দুই কেদার ধান কেটে খোলায় তুলেছি, কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা পচে যাচ্ছে। জমিতে পানি থাকায় মেশিন ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না, তাই জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। 

‎শনির হাওড়ের কুকড়াপড়শী গ্রামের কৃষক রমজান আলী বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল, একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার। ধার-দেনা করে জমি চাষাবাদ করেছিলাম, এখন সারা বছর কীভাবে চলব? 

‎পাগনার হাওড়ের আমির আলী বলেন, তার ২১ কেদার জমির মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪ কেদার তলিয়ে গেছে, বৃষ্টি না থামলে বাকি জমিও ডুবে যাবে।

‎বিভিন্ন হাওড়ের কৃষকদের অভিযোগ, এক মণ ধানেও একজন শ্রমিক মিলছে না। একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে জ্বালানি সংকট; সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় হারভেস্টার ব্যবহারও বন্ধ রয়েছে।

‎উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ২৪ হাজার ৫শ ৫ হেক্টর বোরো জমি আবাদ করা হয়েছে। যার লক্ষমাত্রা প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন চাউল।

‎কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত সাড়ে ৬শ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা। 

তিনি সতর্ক করে বলেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .