Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

কলেজে শিক্ষকদের ওপর হামলা, ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার

Icon

নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

কলেজে শিক্ষকদের ওপর হামলা, ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার

ছাত্রদলের লোগো

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের ওপর হামলা, হত্যার হুমকি ও অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুর করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিন নেতাকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এছাড়া বর্তমান সভাপতির পদ স্থগিত করার পাশাপাশি সাবেক এক সভাপতিকে শোকজ করা হয়েছে। 

বুধবার (২৯ এপ্রিল)  রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল ও সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, শিক্ষকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ছাত্রদল এমন কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আমরা সতর্ক রয়েছি।

এর আগে বুধবার দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। কলেজ প্রশাসন ও ভুক্তভোগী শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকির হোসেন সস্ত্রীক দাপ্তরিক কাজে কলেজে এলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম ছানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে বসেন। এ সময় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালায়।

অভিযোগ উঠে, হামলাকারীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং শিক্ষকদের খাবার খেতে বাধা দিয়ে খাবার প্লেট কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়। এছাড়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার পর শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে জরুরি সভা করে কর্মবিরতিসহ ৬ দফা দাবি ঘোষণা করে। দাবির মধ্যে রয়েছে হামলাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিল, কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদল নেতাদের কাছে অভিযোগ দায়ের, থানায় মামলা এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি। বর্তমানে শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন।

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েল বলেন, সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা সংগঠিত হয়ে এ হামলা চালান। আমরা ক্লাসে ফিরতে চাই, কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলন ছাড়া উপায় নেই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বিশাল। তার দাবি, শিক্ষকরাই নিজেদের কার্যালয় নিজেরা ভাঙচুর করে ছাত্রদলের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। এ ঘটনায় ছাত্রদল পালটা মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

নোয়াখালী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম ছানা উল্লাহ বলেন, আমার রুমে ভাঙচুর করা হয়েছে, আমাকে খাবার খেতেও দেওয়া হয়নি। আমি মুখে ভাত তুলতে পারিনি। ছাত্ররা এমন আচরণ করবে—ভাবতেই পারিনি। প্রয়োজনে শিক্ষকতা ছেড়ে দেব, তবুও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবো না।

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি শোনা গেছে। কলেজ প্রশাসনের অনুরোধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম