Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

২০ বছর পর বিরল দৃশ্য হালদায়

Icon

তৈয়ব চৌধুরী, রাউজান (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

২০ বছর পর বিরল দৃশ্য হালদায়

২০ বছর পর বিরল দৃশ্য হালদায়

চট্টগ্রামের রাউজান ও হাটহাজারী এলাকায় প্রবাহিত দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদীতে প্রায় ২০ বছর পর বিরল এক দৃশ্যের দেখা মিলেছে। প্রজনন মৌসুমে একই দিনে ভোরে নমুনা ডিম এবং পরে জোয়ারের সময় পূর্ণমাত্রায় ডিম ছেড়েছে কার্পজাতীয় মা মাছ—যা স্থানীয়দের মতে অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও বিরল ঘটনা।

৮০ বছর বয়সি অভিজ্ঞ ডিম সংগ্রাহক মো. আবদুল মান্নান জানান, দুই দশকেরও বেশি সময় আগে এমন দৃশ্য তিনি শেষবার দেখেছিলেন।

তার ভাষায়- ‘চৈত্রের আণ্ডা, বৈশাখের চা’—এই প্রবাদ যেন আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে হালদা নদীর তীরে।

বৃহস্পতিবার ভোরে ভাটার সময় এবং পরে সকাল থেকে দুপুরের জোয়ারে হাটহাজারীর গড়দোয়ারা ইউনিয়নের নয়াহাট, রাউজানের পশ্চিম গুজরার আজিমের ঘাট ও নাপিতের ঘাট এলাকায় মা মাছ ডিম ছাড়ে। রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশ প্রজাতির মাছের এ ডিম ছাড়ার ঘটনায় নদীপাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

তবে অনেক সংগ্রাহক জানান, হঠাৎ এ পরিস্থিতির জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন না, ফলে সম্ভাব্য সব ডিম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবুও কয়েক দফায় ডিম সংগ্রহ করতে পেরে আনন্দিত তারা।

হাটহাজারী জাগৃতির ডিম সংগ্রহকারীদের সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মো. মোরশেদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রায় ২০ বছর পর ঘটল। হালদা নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে পারলে ভবিষ্যতে নিয়মিত এমন ডিম পাওয়া সম্ভব হবে।

রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তফজ্জাল হোসেন ফাহিম জানান, রাউজানের মোবারকখীল হ্যাচারিতে প্রায় ৪০ বালতি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া আইডিএফ ও হাটহাজারীর বিভিন্ন হ্যাচারিতে মিলিয়ে আরও শতাধিক বালতি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত হালদা নদীতে কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন মৌসুম। বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পানির সঙ্গে মিলেই সাধারণত মা মাছ ডিম ছাড়ে। এ সময় ৫০০ থেকে ৭০০ জন সংগ্রাহক নদীতে ডিম সংগ্রহের অপেক্ষায় থাকেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, হাটহাজারী ও রাউজানের চারটি সরকারি হ্যাচারি এবং শতাধিক মাটির কুয়া রেণু ফোটানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

হালদা নদী বিশেষজ্ঞ ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, নদীতে দুপুরে জোয়ারের সময় রুইজাতীয় মাছ স্বল্প পরিসরে ডিম ছেড়েছে। অনেক ডিম সংগ্রহকারী ডিম ধরার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না, তাই সংগ্রহের পরিমাণ খুবই কম।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সন্ধ্যার পর ভাটার সময় অথবা রাতে জোয়ারে আবারও ডিম ছাড়তে পারে মা মাছ।

উল্লেখ্য, গত বছর হালদা নদী থেকে প্রায় ১৪ হাজার কেজি নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। এর আগে ২০২০ সালে রেকর্ড ২৫ হাজার কেজি ডিম আহরণ করা হয়েছিল।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .