Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে চিকিৎসক দম্পতি কারাগারে

Advertisement

Icon

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে চিকিৎসক দম্পতি কারাগারে

ফাইল ছবি

Advertisement

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১১ বছর বয়সি এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে এক চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে জেলা শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকার নিজ বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেফতাররা হলেন, কে এম আবদুল্লাহ আল নোমান ও কিমিয়া সাদাত তোফা। তারা একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জেলার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামের ওই শিশুটিকে প্রায় ৯ মাস আগে তার নানা চিকিৎসক দম্পতির বাসায় কাজের জন্য রেখে যান। 

পরিবারের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে শিশুটির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়। কয়েকদিন আগে জানানো হয়, শিশুটি চুরি করে পালিয়ে গেছে। কিন্তু কোনো খোঁজ না পেয়ে ২৬ এপ্রিল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন শিশুটির পরিবার।

এরপর পুলিশ অভিযানে গিয়ে চিকিৎসক দম্পতির বাড়ির পাশ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শরীরজুড়ে নির্যাতনের একাধিক চিহ্ন দেখা গেছে।

ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে নিয়মিত মারধর করা হতো। এখন তাকে চোর সাজানোর চেষ্টা চলছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটি জানায়, সামান্য ভুলত্রুটিতেই তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হতো, এমনকি গরম তেল ছিটিয়ে দেওয়ার মতো নিষ্ঠুর নির্যাতনেরও শিকার হয়েছে সে। 

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক কে এম আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি দাবি করেন- শিশুটি গৃহকর্মী নয়, বরং সন্তানদের খেলার সঙ্গী হিসেবে বাসায় ছিল। 

তিনি আরও বলেন, শিশুটি তাদের বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, শিশুর বিরুদ্ধে থানায় কোনো চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়নি, বরং শিশুর বাবার দায়ের করা মামলায় চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের পরিদর্শক হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, আদালত ওই চিকিৎসক দম্পতির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম